সংবাদদাতা, বহরমপুর: জমি মাফিয়াদের থাবায় চালতিয়া বিলের আয়তন ক্রমশ কমে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে মাছ চাষের জলাশয়। রাতের অন্ধকারে চলছে বিল ভরাট। শুক্রবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত জলাশয় ভরাটের কাজ চলছে। এই সময়ে আদালত বন্ধ থাকায় কেউ অভিযোগ নিয়ে আদালতেও যেতে পারছেন না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আর কয়েক বছর পর রাস্তার পাশের বিলের একাংশে কংক্রিটের ইমারত খাড়া হয়ে যাবে। চালতিয়া বিল ভরাট হতে বসায় পরিবেশপ্রেমীরা চরম উদ্বিগ্ন। তাঁদের দাবি, আমরা জলাশয় ভরাটের প্রতিবাদে আন্দোলন সংগঠিত করছি। কিন্তু প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে।
বহরমপুর শহরের দক্ষিণ প্রান্তের চালতিয়া বিল এই শহরের গর্ব। চালতিয়া বিলের আয়তন প্রায় ৩০০ বিঘা। ভাকুড়ি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি দীর্ঘদিন ধরে এই বিলে মাছ চাষ করে আসছে। শহরের সিংহভাগ মাছের জোগান দেয় চালতিয়া বিল। সেই বিলের একটা বিস্তীর্ণ অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে একের পর এক দোতলা, তিনতলা বাড়ি মাথা তুলছে। শ্রীগুরু পাঠাশালা থেকে রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার একপাশে রয়েছে এই জলাভূমি। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রাস্তার পাশে বিলের উপর যে হারে মাটি ভরাট করে বাড়ি উঠছে তাতে আগামী দু’ বছরে রাস্তা থেকে বিল নজরে আসবে না। মাঝেমধ্যে পুলিস প্রশাসনের লোক আসে ঠিকই। কিন্তু তাতে জলাশয় ভরাট থমকে নেই।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজর এড়াতে জমি মাফিয়ারা এখন রাতের অন্ধকারকে হাতিয়ার করেছে। কোথাও বাঁশ দিয়ে ঘিরে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। কোথাও টিন দিয়ে ঘিরে তার ভিতরে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। ভাকুড়ি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সম্পাদক বিনয় হালদার বলেন, যারা এই কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া আমাদের ক্ষমতার বাইরে। কয়েকদিন আগে মাটি তোলার জন্য পুলিস এল। কিন্তু কিছুই না করে ফিরে গেল। কেন তা জানি না। প্রশাসনের কর্তাদের বিষয়টি দেখতে হবে। বহরমপুর শহরে একের পর এক জলাশয় ভরাট করে বহুতল ওঠায় পরিবেশকর্মীরা এই শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা ‘জলাভূমি রক্ষা কমিটি’-র ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে এই কমিটির আন্দোলনে বেশ কয়েকটি জলাশয় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি কমিটির সদস্যদের। জলাভূমি রক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য নির্মল সরকার বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছি। এখন মূলত রাতের অন্ধকারেই জলাভূমি ভরাটের কাজ চলছে। ফের আমরা এর বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে নামছি। তবে প্রশাসনকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, শহরে অবৈধ পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে আমরা একটা তালিকা তৈরি করেছি। খুব শীঘ্রই অভিযান শুরু করা হবে। ভরাট করা মাটি তুলে ফের জলাশয় ফিরিয়ে দেওয়া হবে।