সংবাদদাতা, বেলদা: ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ভরছে এলাকা। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এনিয়ে পরিবেশ দপ্তরের কাছে জমা পড়েছিল অভিযোগ। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দাঁতন এলাকায় ১৯টি ইটভাটাকে নোটিস করেছিল পরিবেশ দপ্তর। ৬টি ইটভাটা পরিবেশ দপ্তরের সরকারি নিয়ম মানলেও বাকি ১৩টি ইটভাটা সরকারি নিয়ম না মানায় সেগুলি বন্ধ করার ভাবনাচিন্তা করছে পরিবেশ দপ্তর। পাঠানো হয়েছে নোটিসও।
দাঁতনের সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী এলাকায় রয়েছে একাধিক ইটভাটা। সেগুলি থেকে ক্রমাগত বেরচ্ছে কালো ধোঁয়া। বিষয়টি নিয়ে গত বছর অভিযোগ জানিয়েছিলেন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পরিবেশ দপ্তর। গত বছর ডিসেম্বর মাসে দাঁতন এলাকায় থাকা ছোট বড় ১৯টি ভাটাকে নোটিস দেওয়া হয়।
দপ্তর সূত্রে খবর, সেই সময় কয়েকটি ভাটার মালিক উপস্থিত হয়ে সরকারি নিয়মে ভাটা তৈরির জন্য সময় চায়। পরে ফের চলতি বছরের ৩ এপ্রিল জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরে লিগাল হিয়ারিং এর জন্য গত ২৬ মার্চ নোটিস দিয়ে ডাকা হয় ভাটার মালিকদের। সেই সময় ৬টি ইটভাটা সরকারি নিয়ম মেনে ‘জিগজ্যাক’ পদ্ধতিতে ভাটা তৈরির কথা মেনে নেয়। বাকিদের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সেগুলি সরকার নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে ভাটা তৈরি করেনি। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করেছে পরিবেশ দপ্তর।
দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, নতুন এই জিগজ্যাক পদ্ধতিতে ভাটা তৈরি করা হলে তাতে দূষণের মাত্রা অনেকাংশে কমে যায়। যে ১৩টি ইটভাটা সরকারি পদ্ধতি না মেনে ভাটা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে নোটিস পাওয়া এক ইটভাটার মালিক বলেন, নতুন এই পদ্ধতিতে ইটভাটা তৈরি খরচ সাপেক্ষ। প্রায় এক কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। বর্তমানে সেই পদ্ধতিতে ভাটা তৈরি করতে গেলে পড়ে থাকা কাঁচা ইটগুলি নষ্ট হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ইটের মরশুম শেষ হয়ে যাবে। সেই কাঁচা ইটগুলি পোড়ানোর কাজ শেষ হয়ে গেলে আমরা নতুন করে সরকারি পদ্ধতি মেনে ভাটা তৈরির উদ্যোগ নেব। সরকারের কাছে, আবেদন আমাদের আরও কয়েকদিন সময় দেওয়া হোক।-নিজস্ব চিত্র