সংবাদদাতা, কল্যাণী: নদীয়া নাকি হুগলি, কোন জেলার বাসিন্দা তাঁরা? সেই টানাপোড়েনের জেরে দীর্ঘ ২৮ বছর ভোটার তালিকায় নামই ছিল না গোটা গ্রামের। শেষমেশ হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁদের ঠাঁই হয়েছে কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রে। এই বিধানসভা আসনের চর যাত্রাসিদ্ধি গ্রামের হাজার খানেক মানুষ এখন এসআইআর নিয়ে আতংকে। গঙ্গার চরে গড়ে ওঠা এই গ্রামে সিংহভাগ ভোটার মাহাত জনগোষ্ঠীর। কয়েক পুরুষ ধরে তাঁরা এই চরে বসবাস করলেও ২০০৯ সালে তাঁদের ভোটার কার্ড তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই চর যাত্রাসিদ্ধি গ্রামের কোনও বাসিন্দার। বর্তমানে এখানে ভোটার রয়েছেন ১১৫৭ জন।
কল্যাণী ব্লকের চর মধুসূদনপুর মৌজা। যা চর যাত্রাসিদ্ধি গ্রাম নামে পরিচিত। হুগলি নদীর তীরে এই এলাকাটি বর্তমানে কল্যাণী বিধানসভার অন্তর্গত এবং কল্যাণী ব্লকের কাঁচরাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। এই গ্রামেই রয়েছে ১১৩ নম্বর বুথ। সেখানে ৯০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে সদ্য আঠারোয় পা রাখা নতুন ভোটারও রয়েছেন। গ্রামবাসীদের কথায়, ১৯৮১ সাল পর্যন্ত হুগলি জেলায় ভোট দিয়েছেন তাঁরা। তারপর হঠাৎ জানা যায়, ওই জেলার ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গিয়েছে তাঁদের। সেখান থেকে বলা হয়, গঙ্গার ওপাড়ে অর্থাৎ নদীয়া জেলার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম উঠেছে। কিন্তু নদীয়া জেলা প্রশাসনের কাছে গেলে তারা বলে হুগলি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। এই নিয়ে চলে দীর্ঘ টানাপড়েন। পরে বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা ভোটের অধিকার চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। সেই মামলাও চলে দীর্ঘদিন। অবশেষে ২০০৯ সালে নদীয়া জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ উদ্যোগে ওই গ্রামের বাসিন্দাদের ভোটার কার্ড তৈরি হয়।
এই গ্রামের বাসিন্দা বছর সত্তরের রামসাগর মাহাত বলেন, নদী ভাঙনের কারণে আমরা কোন জেলার বাসিন্দা, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২৮ বছর ধরে লড়াই করার পর ২০০৯ সালে আমরা ফের ভোটার হতে পেরেছি। আমাদের পূর্বপুরুষরা দু’শো বছরের বেশি সময় ধরে এখানে বসবাস করেছেন। আমাদের জন্ম এই গ্রামেই। এখন এসআইআর নিয়ে আতংকে রয়েছি। আমাদের আবার বাংলাদেশি না বানিয়ে দেওয়া হয়। আশা করি, আমাদের নাম বাদ যাবে না। নির্বাচন কমিশন আগের মতো কিছু একটা ব্যবস্থা করবে। অন্যদিকে, এই বিষয় নিয়ে কল্যাণীর মহকুমা শাসক অভিজিৎ সামন্ত বলেন, পূর্বপুরুষের নথি যা আছে, তাঁরা সেগুলি দেখাবেন। এরপর আইন মেনে পদক্ষেপ হবে।-নিজস্ব চিত্র