নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক ও আসানসোল: আর বাকি সাতদিন। আগামী বুধবার উদ্বোধন দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের। রাজ্যজুড়েই উৎসাহ তুঙ্গে। প্রায় সকলেই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে চান। ফলে, হাওড়া, আসানসোল থেকে দীঘা যাওয়ার ট্রেনের টিকিটের আকাল। সাঁতরাগাছি দীঘা স্পেশাল ট্রেনেরও কনফার্ম টিকিট মিলছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণপূর্ব রেল। ইতিমধ্যেই একজোড়া স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দক্ষিণপূর্ব রেলের ডেপুটি চিফ অপারেশন ম্যানেজার শ্রীনিবাস সামন্ত জানিয়েছেন, ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত টানা ন’দিন ১২ কামরা বিশিষ্ট এক জোড়া স্পেশাল লোকাল ট্রেন চলবে। একটি হাওড়া থেকে দীঘা এবং অপরটি পাঁশকুড়া থেকে দীঘা পর্যন্ত চলাচল করবে। সড়ক পথেও দীঘা যাত্রাকে সুগম করতে ১৫টি অতিরিক্ত বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা (এসবিএসটিসি)। বেসরকারি পরিবহণ সংস্থাগুলিও বাড়তি বাস চালাতে পারে বলে খবর। দক্ষিণপূর্ব রেলের মূখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ওম প্রকাশ চরণ বলেন, ‘হাওড়া-দীঘা এবং পাঁশকুড়া-দীঘা জোড়া স্পেশাল লোকাল ট্রেন চলবে। আগামী ২৬এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু থাকবে।’ এসবিএসটিসির চেয়ারম্যান সুভাষ মণ্ডল বলেন, ‘এই মুহূর্তে দীঘায় আমাদের ৮৮টি বাস যাতায়াত করে। অতিরিক্ত আরও ১৫টি বাস চালানো হবে। বৃহস্পতিবারই দীঘা-বহরমপুর বাস পরিষেবা চালু হচ্ছে। বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর থেকে দীঘা বাস পরিষেবা চালু হচ্ছে। দীঘার ডিপোটি ঢেলে সাজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলকাতার বেলঘরিয়া ডিপোতে সিএনজি স্টেশন হচ্ছে। সেটা হয়ে গেলেই কলকাতা-দীঘা সিএনজি বাসও চলবে।’ দীঘায় এতদিন উত্তাল সমুদ্রের ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য্য টানত পর্যটকদের। এবার দীঘা ক্রমেই হয়ে উঠবে ধর্মীয় পর্যটনস্থল। এমনটাই চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৮ এপ্রিল থেকে উদ্বোধন-আনুসাঙ্গিক ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শুরু হবে। ৩০ এপ্রিল খুলে যাবে মূল মন্দিরের দরজা। উদ্বোধনের আগে শনি ও রবিবার দু’টি স্পেশাল ট্রেন দীঘার জন্য সাঁতরাগাছি থেকে ছাড়ার কথা।



