Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্নানরত বধূর ছবি তুলেই ‘ঘরবন্দি’ ইংরেজি শিক্ষক, মাসে বেতন তুলছেন লক্ষাধিক টাকা!

গত ১৭ জুলাই থেকে একটানা স্কুলে আসছেন না মারিশদা থানার ভাইটগড় একে হাইস্কুলের একমাত্র ইংরেজির শিক্ষক চন্দনকুমার প্রধান।

স্নানরত বধূর ছবি তুলেই ‘ঘরবন্দি’ ইংরেজি শিক্ষক, মাসে বেতন তুলছেন লক্ষাধিক টাকা!
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গত ১৭ জুলাই থেকে একটানা স্কুলে আসছেন না মারিশদা থানার ভাইটগড় একে হাইস্কুলের একমাত্র ইংরেজির শিক্ষক চন্দনকুমার প্রধান। তারজন্য ছুটির অনুমোদন নেই। বাড়িতে বসে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা বেতন তুলছেন ওই শিক্ষক। এদিকে, স্কুলে ইংরেজি পঠনপাঠন বন্ধ হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুলেরই একজন প্রাক্তনীকে নামমাত্র পারিশ্রমিকে পড়ানোর জন্য নিযুক্ত করেছে। এই অবস্থায় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার তমলুকে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) অফিসে যান ওই স্কুলের টিচার ইন-চার্জ তুহিন মেইকাপ। তবে, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পলাশ রায় অফিসে ছিলেন না। সেজন্য তহিনবাবু অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, স্কুলে ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ের পর ইংরেজির শিক্ষককে অবিলম্বে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হবে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই স্কুল সংলগ্ন পুকুরে এক মহিলার স্নানের ভিডিও তোলার অভিযোগে গ্রামবাসীর ইংরেজির ওই শিক্ষককে তাড়া করেন। স্কুল ক্যাম্পাসের বাইরে তাঁর উপর এলাকার লোকজন চড়াও হয়। যদিও এর আগে আগে স্কুলের ছাত্রীদের ছবি তোলা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সেসময় ওই শিক্ষককে নিয়ে দফায় দফায় ম্যানেজিং কমিটি বৈঠক করে। সেখানে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। এমনকী, বিষয়টি জেলাশাসক থেকে পুলিশ সুপারকেও চিঠি দিয়ে জানান স্কুলের টিচার ইন-চার্জ এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। তারপরই গ্রামের পুকুরে স্নানরত মহিলার ছবি তোলায় তাঁর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিনের পর থেকেই তিনি স্কুলে আসছেন না।
কাঁথি-৩ ব্লকের ভাইটগড় এই হাইস্কুলে মোট ছাত্রছাত্রী ১৬০ জন। চারজন শিক্ষক রয়েছেন। তারমধ্যে ইংরেজি শিক্ষক সাড়ে তিন মাস স্কুলে না আসায় পঠনপাঠনে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই অবস্থায় স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় মানোয়ারা খাতুন নামে একজন এমএ পাশ ছাত্রীকে পড়ানোর জন্য নিযুক্ত করেছে। এদিকে ইংরেজির ওই শিক্ষক চন্দনবাবুর প্রাপ্য সব ছুটি শেষ। তাই ডিসেম্বর মাসে তিনি কাজে যোগ না দিলে সরকারি নিয়মে তাঁর বেতন বন্ধ হয়ে যাবে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি। এই অবস্থায় মঙ্গলবার টিচার ইন-চার্জ সহ দু’জন শিক্ষক ভাইটগড় থেকে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে যান। মঙ্গলবার স্কুলের টিচার ইন-চার্জ তুহিনবাবু বলেন, গত ১৬ জুলাইয়ের ঘটনা স্কুল ক্যাম্পাসের বাইরে হয়েছে। তাই ওই ঘটনায় আমি থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করিনি। সেদিন থেকেই তিনি স্কুলে আসছেন না। ছুটির অনুমোদন ছাড়াই টানা সাড়ে তিন মাস তিনি স্কুলে অনুপস্থিত। গোটা বিষয়টি ডিআই অফিসের নজরে আনা হয়েছে।
ইংরেজির শিক্ষক চন্দনকুমারবাবু বলেন, স্কুলের নানা অনিয়ম নিয়ে সরব হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ডিআই অফিসের অনুমোদন ছাড়া স্কুলে পাঁচজন গেস্ট টিচার নিয়োগ করা হয়েছিল। মিড ডে মিল এবং ডেভেলপমেন্ট ফি এর টাকা থেকে তাঁদের সাম্মানিক দেওয়া হতো। পরে অবশ্য তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও স্কুলটি একটা রাজনৈতিক দলের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমি টার্গেট হয়েছি। গত ১৬ তারিখ আমি স্কুলে আক্রান্ত হই। তারপর থেকে আর স্কুলে যাইনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ