নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহার গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ওই কলেজেরই এক প্রাক্তন ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন মৃতার বাবা। অভিযোগ, ওই ছাত্র নাম ভাঁড়িয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন। পাশাপাশি ঘটনার রাতে অন্বেষার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে নিজের ঘরে ফেরা ও তাঁকে উদ্ধার করার সময়ের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম ছিল। ওই সামান্য সময়ের মধ্যে কীভাবে মেয়ে এমন কাণ্ড ঘটাল, তা নিয়েও মৃতার বাবা প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে ক্রমেই রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শহর লাগোয়া হরিণচওড়া এলাকায় অবস্থিত কোচবিহার গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের গার্লস হস্টেলের তিনতলার একটি ঘর থেকে অন্বেষা ঘোষ নামে এক ছাত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন সহপাঠীরা। স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিস, জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার কৃষ্ণগোপাল মিনা সহ অন্যান্য পুলিস আধিকারিক ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
ওই ছাত্রীর বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে। রাতেই খবর পেয়ে রওনা দেন মৃতার বাবা তাপসকুমার ঘোষ ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। শুক্রবার গভীর রাতে তাঁরা কোচবিহারে এসে পৌঁছন। শনিবার কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ওই ছাত্রীর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এরপরই এদিনই থানাতে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
মৃতার বাবা বলেন, মনে হচ্ছে এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়। আমাকে রাত দু’টো বেজে তিন মিনিটে ওয়ার্ডেন ফোন করেছিলেন। মেয়ে যে রুমে থাকত সেখানে রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ আবাসিক পড়ুয়ারা ঢুকেছিল। আর আমার মেয়ে পাশের রুমে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে একটার সময় ফিরেছিল। একটা পাঁচে রুমে ঢুকেছিল। ফলে মাঝে মাত্র ১৫ মিনিট সময় থাকছে। ওইটুকু সময়ে এই কাজ কী করে করা সম্ভব? কোনওভাবে এটা ঘটানো হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। আমি একজন প্রাক্তন ছাত্রের নামে অভিযোগ দায়ের করেছি। এর আগে মেয়ে অসুস্থ হওয়ার সময় ওই প্রাক্তন ছাত্র আমাকে ফোন করেছিল। কিন্তু নিজের নাম সঠিক বলেনি। ঘটনার দিন বিকেলেও ওই ছেলেটি হস্টেলের সামনে এসেছিল।
তিনি আরও বলেন, মেয়েকে ওখানে রেখে আমরা গত ১৯ আগস্ট ফিরে গিয়েছিলাম। তারপর থেকেই মেয়ে বলছিল তার এখানে ভালো লাগছে না। আমি বুঝিয়ে ছিলাম। নিয়ে আসবও বলেছিলাম। আমি চাইছি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। অন্বেষা ঘোষ।