Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

সম্রাট-সেনাপতি সংবাদ

আপনার গ্যারান্টি তো সব সময় লা-জবাব। ওই বেচেই তো খাচ্ছি আমরা। ধর্ম, আর গ্যারান্টি... একেবারে টেস্টেড।

সম্রাট-সেনাপতি সংবাদ
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শান্তনু দত্তগুপ্ত:  —কী সেনাপতি, গ্যারান্টি কেমন দিলাম?

Advertisement

—আরে গুরুজি, কী যে বলেন? আপনার গ্যারান্টি তো সব সময় লা-জবাব। ওই বেচেই তো খাচ্ছি আমরা। ধর্ম, আর গ্যারান্টি... একেবারে টেস্টেড। সাফল্য আসবেই। অং-কলিং তো ছিলই। এবার বংও হয়ে যাবে... কী বলেন?

—সে তো আপনি বলবেন। আমি তো যাব, স্বপ্ন ফেরি করব, আর পুষ্পক রথে চেপে রাজধানী ফিরে আসব। এছাড়া চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কাজ কী? রণকৌশল তো সব তোমার মাথায়। সাধে কি আর তোমাকে চাণক্য বলে?

—হেঁ, হেঁ... কী যে বলেন? আমি তো আমার কর্তব্য করছি। প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, গোটা আর্যাবর্তের রং বদলে দেব। প্রায় মেরে এনেছি। শুধু কাঁটার মতো এই অঙ্গরাজ্যটা দপদপ করছে। এবার যা প্ল্যান ফেঁদেছি, সহজে ছেড়ে দেব না!

—হুঁ, সে তো বুঝেছি। তাই তো ওই ‘ম’ সংঘের সঙ্গে যুক্তদেরও গ্যারান্টি দিয়ে এসেছি।

—ওটা ভাবছি... কীভাবে করা যায়। অনেকগুলো ‘ভো’। ছাড়া যাবে না। ওটা একেবারে শেষে মারব। কিন্তু তার আগে অনেকগুলো কাজ আছে। তালিকা তৈরিটা ঠিকঠাক হয়নি এখনও। ওখানে কিছু কলকাঠি নাড়তে হবে। আরও বেশ কিছু ‘সমন’ বানানো চলছে। ব্যালান্স করতে হবে। অনেকগুলো নাম বাদ না দিলেই নয়। জায়গাপত্তর বাছাই হয়ে গিয়েছে। সেই মতো ঘরে ঘরে সমন যাচ্ছে। তারা এসে কাঠগড়ায় দাঁড়াবে। আর তারপর যা হওয়ার... হেঁ হেঁ... খারিজ খারিজ খারিজ।

—এতে হয়ে যাবে মনে হচ্ছে?

—সবটা হবে না। কিন্তু কিছুটা তো হবে! তারপর আমাদের ‘বরফি’ তো আছেই। ওর যন্ত্র দিয়ে কলকাঠি নেড়ে দিতে হবে।

—সেটা কীভাবে?

—অং প্রদেশে ট্রায়াল দিয়ে নিয়েছি। আমাদের তিন কোটাল কত করে পয়েন্ট পেয়েছে দেখলেই বুঝবেন। ভিসিবাবু ১,২২,৪০৮, সচৌবাবু ১,২২,৪৮০, কৃঋবাবু ১,২২,৪৯৪, নীসিবাবু ১,২২,৪৯১।

—বাঃ, কেউ সন্দেহ করেনি?

—করলেই বা কী? প্রমাণ তো করতে হবে! কীভাবে প্রমাণ করবে? কাজ একেবারে নিখুঁত।

—বেশ বেশ। নিশ্চিন্ত হলাম। কিন্তু বুঝলাম না, তুমি এবার মায়ের ঝাঁপি নিয়ে বেশি আক্রমণ করতে বারণ করছ কেন? এটা তো আমাদের লাইন ছিল! ভিক্ষা দিচ্ছে... কাজ নয়।

—উঁহু গুরুজি। গত কয়েক বছর দেখলাম, এই তিরটা ঘুরে আমাদের দিকেই আসছে। লোককে আমরা তো মুদ্রা কিছু দিই না। শুধু দেব বলি। রাজগৃহে কাজ দেব বলি। দিই না। আর ওই অঙ্গরাজ্য কিছু হলেও তো স্বর্ণমুদ্রা প্রজাদের হাতে দিচ্ছে। এতে প্রজাকুলের আহ্লাদ তো হবেই। তাই যখনই আমরা মায়ের ঝাঁপি নিয়ে আজেবাজে বলছি, প্রজারা খেপে যাচ্ছে আমাদেরই উপর। তাই ওসবে যাবেন না। অনুপ্রবেশ নিয়ে থাকুন। এই অ্যাঙ্গেলটা দাঁড় করিয়ে দেব। প্রথমে আমাদের রথের চাকা কিছুটা কেতরে গিয়েছে ঠিকই, এবার বললাম না... ম্যানেজ করে দেব।

—এক কোটি বাং আর রোঙ্গা জাতি খুঁজে পাবে কোথায়?

—এক কোটিটা একটু বেশি বলে ফেলেছে। ওভাবে হবে না। ‘ভো’ কমাতে হবে। বুঝে বুঝে।

—শুনছি নাকি এতে লোকজন আমাদের উপর রেগে যাচ্ছে? কাজকর্ম ফেলে গরিব প্রজাদের গিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে লাইনে। সারা দিন নষ্ট হচ্ছে। এসব কি সত্যি?

—সত্যি তো বটেই! প্রায় দেড় কোটি লোককে নোটিস পাঠিয়েছি। একটু হ্যারাস করব না?

—দেখো, এতে আবার পয়েন্ট না কমে যায়। সবাই দেখছি ফুঁসছে।

—ও ফুঁসতে দিন। সব ম্যানেজ হয়ে যাবে।

—বাহ, ভালো। তুমিই এসব দেখো। আমি অত দিমাগ লাগাতে পারি না। এমনিতেই আমার সাত সাগর পারের বন্ধুটা বড্ড জ্বালাচ্ছে। বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে। আমাকে দেখে শিখতে পারে! আমি কেমন ফকিরের মতো ঘুরি। সামান্য খাইদাই। সামান্য সস্তার জামাকাপড়, চশমা পরি। আর ওকে দেখো! খালি ক্ষমতার নেশা। পড়শি দু’খানা রাষ্ট্রও খুব জ্বালাচ্ছে। আমি এত বুঝি নাকি? তার মধ্যে তোমরা কতগুলো অঙ্গরাজ্য ঘোরাচ্ছ আমাকে। এটা তাও ঠিক আছে। ম্যাজিক যন্ত্রে লেখা ফুটে ওঠে। ওটা পড়লেই হয়।

—আপনি একদম টেনশন নেবেন না।

—ঠিক। আমি এখন ঘুরব ফিরব, সামনে ঝুঁকে হাই বলব দর্শকদের, নানা দিকের ‘শকট’ উদ্বোধন করব। এই ভালো। তুমি বুঝেশুনে প্ল্যান বানাও দিকি!

—আপনার আশীর্বাদ। আমি তো নিমিত্ত মাত্র। (কুটিল হাসি)

—হুম, করো করো... ভালোভাবে প্ল্যান করো। আমার কিন্তু এবার ওই বং প্রদেশটা চাই। রাজ দরবারের অমাত্যরা পর্যন্ত আড়ালে আবডালে এই নিয়ে হাসাহাসি করে। বলে, সব অঙ্গরাজ্য পেল... কিন্তু ব্রহ্মাণ্ডগুরু হয়েও এই প্রদেশে দাঁত ফোটাতে পারল না।

—তাই তো চেষ্টা করছি। (মনে মনে, তোমার সাফল্যে তো আমারও লাভ)।

—ক্ষমতায় এলেই জানো তো... সবার আগে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে?

—যেমন?

—ওই যে দেখো না, ঠাকুরজির মন্দিরের ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত আমিষ নিষিদ্ধ করে দিয়েছি। এভাবে এখানেও ভবা মায়ের মন্দিরের ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত করে দিতে পারি। দারুণ হবে।

—এটা তো আমাদের এজেন্ডা। করতেই হবে। ধর্মস্থানের আশপাশে আবার মাছ-মাংস খাওয়া কী? এই প্রদেশের মানুষগুলো আবার খুব মাছ-মাছ করে। এটা বন্ধ করতেই হবে। নারী সমাজের জামা-কাপড় নিয়ে সনদ জারি করতে হবে, বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে, লিখবে... তাদের বন্দি করতে হবে, বিরিয়ানি পাড়ার সামনে পাহারা বসাতে হবে... যাতে আমাদের ধর্মের লোকজন ওখানে ঢুকতে না পারে।

—সাধু সাধু। সব করে দেব। আশা করি এতে পয়েন্ট কমে যাবে না?

—আরে না গুরুজি। এমন কল করে রাখছি, পয়েন্ট কমলেও কম দেখাবে না। একবার শুধু প্রদেশটা দখল করতে দিন। ভক্তদের দিয়ে অ্যায়সা প্রচার করাব...।

—হুম। সব হবে। আগে একটু বোকাবাক্সটা চালাও দেখি! কী দেখাচ্ছে আজ ওখানে?

কালো রঙের মিনি খাম্বার নীলচে বোতামে চাপ দিলেন সেনাপতি। প্রথমেই খবর দেখাচ্ছে।

—বাঃ সেনাপতি, এ দেখি আমার প্রাণের শহরের খবর দেখাচ্ছে। কত উন্নয়ন করছি সেখানে বাবা... হুঁ হুঁ। আচ্ছা সেনাপতি, এই বোকাবাক্সটাও কি আমার রাজত্বে বলে চালাতে পারব? বাকি সব যেমন চালাই?

—এটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।

—হুঁ। (মনে মনে, বেশি বোঝে)। দাঁড়াও খবরে কী বলছে দেখি।

জায়গাটা বারাণসীর ডালমন্ডি। সংস্কারের ঠেলায় গোটা এলাকা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রচুর বাড়ি। প্রায় ২০ হাজার দোকান। কিচ্ছু নেই। শুধু পড়ে আছে ইট, পাথর, রাবিশ, জানালা-দরজার ভাঙা ফ্রেম। আর নিঃস্ব হয়ে যাওয়া কয়েকটা মানুষ। কারণ রাস্তা চওড়া হচ্ছে। মণিকর্ণিকা ঘাটের ‘উন্নয়ন’ সামনে রেখে। দোকান হারানো আসিফ বলছেন, ‘আমরা কী করব এখন? সংসার চালাব কীভাবে? ছেলেমেয়ের স্কুলের ফি দেব কীভাবে? গরিব মানুষকে শেষ করে দিয়ে কোনও উন্নয়ন হয় না।’ হাউহাউ করে কাঁদছেন ৬৫ বছরের আব্বাস সাহেব... ‘আমার বাবা ৮০ বছর আগে এই দোকান করেছিল। পুরোটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। হাইকোর্টের অর্ডার টাঙানো ছিল। আমাকে কেউ সরাতে পারবে না। কিন্তু সেটাও দেখল না! তিন মেয়ে আমার। বিয়ে দিতে হবে ওদের। এখন কী করব? কোথায় যাব?’ চোখের জল থামছে না তাঁর। কাঁদছেন সঞ্জু জয়েসওয়ালও... ‘মেয়েটা বড়। এখনও বিয়ে দিতে পারিনি। ছেলে ১৪ বছর বয়স। পঙ্গু। কোনওভাবে চিকিৎসা করিয়ে ওকে দাঁড় করিয়ে রেখেছি। স্ত্রীর গয়না বেচে, লোন নিয়ে ১০ লাখ টাকা জোগাড় করেছিলাম। দোকান করেছিলাম। সেটা এক ঘণ্টায় শেষ হয়ে গেল। এক পয়সা পেলাম না। সরকার যা দিল বাড়ির মালিককে। তাকে যখন বললাম, সে বলছে, আমি নিজেই সামান্য কিছু পেয়েছি। তোমাকে কী দেব? এগ্রিমেন্ট করেছিলাম। পগড়ি দিয়েছিলাম। সরকার এতগুলো মানুষের পেটে লাথি মারবে? পায়ে ধরছি সরকারের। কিছু ব্যবস্থা করুন।’

—ও সেনাপতি এসব কী চালিয়েছ? মূর্খ লোকজনের ন্যাকামো। উন্নয়নের জন্য একটু স্যাক্রিফাইস তো করতেই হবে। আর ডালমন্ডিতে দোকান দিয়েছ কেন? ও তো লঘুদের জায়গা। আমার ধর্মের লোকজন ঘাটের কাছে দিলেই তো পারত! ওখানে গুজরাতিদের ব্যবসার এলাকা তো ভাঙা হয়নি!

—গুরুজি ওই ব্যাপারটা নিয়েও বেশ গণ্ডগোল চলছে।

—কোনটা?

—মণিকর্ণিকা ঘাট।

—ধুস। এরা সব হাজার বছর পিছনে পড়ে থাকবে। উন্নয়ন করব না? তার জন্য কয়েকটা বাড়ি, ইমারত, দোকান তো ভাঙা পড়বেই। তুমি চ্যানেল ঘোরাও।

বারাণসীর আর একটা নিউজ চ্যানেল। স্থানীয় মিশ্রাজিকে ধরেছেন এক সাংবাদিক। মিশ্রাজি শিবভক্ত। কপালে আড়াআড়ি তিনদাগ চন্দনের প্রলেপ। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। বলছেন, ‘মণিকর্ণিকার মণি উপড়ে ফেলল? বুলডোজার... হাইড্রলিক মেশিন। ভগবানের মূর্তিতে বুলডোজার চালাবে? ঔরঙ্গজেবের আত্মাও কেঁপে উঠবে এই দেখে। বারাণসীর মুসলমানরা রক্ষা করবে আমাদের মন্দিরের। কিন্তু এই সম্রাট করবে না... আমি লিখে দিতে পারি। ভগবানের কাছে হাত জোড় করে প্রার্থনা করি... প্রভু দেখা দাও। এবার হামলা সরাসরি আস্থার উপর হয়েছে। এ হিন্দু নয়। বেওসাদার।’

—আরে আরে এ তো বিদ্রোহ! কীসব চালিয়েছ সেনাপতি? ঘোরাও ঘোরাও। চ্যানেল ঘোরাও। আর এলাকায় খবর দাও, ওখানকার রক্ষী যেন অভিযোগ দায়ের করে এর বিরুদ্ধে। তুলিয়ে নাও।

—যে আজ্ঞে গুরুজি।

এবার নতুন চ্যানেল। বারাণসী পণ্ডিত বিশ্বম্ভর নাথ বলছেন... ‘মণিকর্ণিকা শুধু ঘাট নয়, তীর্থ। চক্র পুষ্করিণী তীর্থ। ভগবান বিষ্ণু এখানে তপস্যা করেছিলেন। মা গঙ্গা সমতলে নামার আগে থেকেই এই জায়গা পুণ্যতীর্থ। এর স্বকীয়তা নষ্ট করার কোনও মানে হয়? এর মাহাত্ম্যই তো ধ্বংস হয়ে যাবে! বারাণসী মানে শুধু পুরানো বাড়ি আর স্থাপত্য নয়। এখানকার মানুষও। এই শহরে সেই থাকতে পারে, মহাদেব যাকে অনুমতি দিয়েছেন। তাঁর এই ইকো সিস্টেম বদলের অধিকার আমাদের নেই।’

—আরে সেনাপতি, এরা সবাই দেখি উলটো কথা বলছে। কী হচ্ছে এসব? তুমি কিছুই দেখছ না।

—দেখছি গুরুজি। আসলে একটা-দুটো পিঁপড়ে তলা দিয়ে বেরিয়ে গেলে নজরে আসে না। চিন্তা করবেন না। সব সালটে দেব।

—সেটাই মঙ্গল। সামলাও সব। এই নাকি সবাই সোফা মিডিয়া হয়ে গিয়েছে, আমি যা বলি তাই করে, আমার গুণকীর্তন ছাড়া কিছু আসে না তাদের... কোথায়? দেখতে তো পাই না! আর বারাণসী না। বং চ্যানেল দাও দেখি! সবে ঘুরে এলাম।

চ্যানেল ঘুরল। তাতে দেখাচ্ছে গুরুজির ভাষণ। তিনি বলছেন, ‘মা মনস্কামনা... অ্যান্টা কালী...।’

—গুরুজি একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

—করো সেনাপতি।

—এই অ্যান্টা কালী কোন দেবী?

—আছে নিশ্চয়ই কোনও। তুমি সব জানো? আমার যন্ত্রে যারা শব্দ গুঁজছে, তাদের অনেক টাকা দেওয়া হয়। তারা না জেনে লেখে না।

—ঠিক ঠিক। তারা না জেনে লিখলে তো চাকরি চলে যাবে। কিন্তু আপনি তাও বলার আগে একটু দেখে নিলে ভালো হয়। এটা মনে হয় বাজে রকমের ফল্‌স হয়েছে।

—(রেগে গিয়ে) তুমি বেশি বোঝো? সব ব্যাপারে ভাষণ। মাঝে মাঝে তো তোমার ভাবসাব নিয়ে আমার সন্দেহ হয়। তোমার লক্ষ্যটা কী বলো তো?

—হেঁ হেঁ (হাত জোড়)... কী যে বলেন গুরুজি। আপনি হলেন স্বয়ম্ভু। বায়োলজিকাল নন। তার উপর ব্রহ্মাণ্ডের গুরু। আপনি বজরংবলি ঠাকুরকে ঘুড়ি বানিয়ে ওড়াতে পারেন। আপনার উপর আমি ভাষণ ঝাড়তে পারি? আমার উদ্দেশ্য তো শুধু আপনার, আর তারপর দেশবাসীর সেবা করা। তাই তো আপনার থেকে শিখছি (গোঁফের আড়ে মুচকি হাসি)।

—এই তো পথে এসেছ। এভাবেই থাকবে। বলো, জয় মা অ্যান্টা কালী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ