ওয়াশিংটন: অভিবাসী আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে গোটা আমেরিকাকে। তারই বলি হলেন তরুণী মার্কিন কবি রেনে নিকোল গুড। সম্প্রতি দক্ষিণ মিনিয়োপালিসে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। সেই আইসিই এজেন্টদের গুলিতে প্রাণ হারালেন উদীয়মান কবি রেনে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেট দুনিয়ায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, অল্প গতিতে এগিয়ে চলেছে একটি কালো এসইউভি। আর সেই গাড়ির চালককে বাইরে আসার নির্দেশ দিচ্ছেন আইসিই এজেন্টরা। তবে গাড়ি থামেনি। একজন এজেন্ট গাড়ির গেট খোলার চেষ্টা করছেন। এই অবস্থায় চালককে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি চালালেন এক এজেন্ট। এরপরই এসইউভিটি একটু এগিয়ে গিয়ে ধাক্কা মারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ রেনেকে এরপর গাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হেনেপিন কাউন্টি মেডিকেল সেন্টারে। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
এই ঘটনার জল গড়িয়েছে বহু দূর। পাঁচ বছর আগের কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলার সঙ্গেও বিষয়টির তুলনা করা হচ্ছে। তবে আইসিইর সাফাই, তাদের একজন এজেন্টকে গাড়ি চাপা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন রেনে। তাই বাধ্য হয়েই গুলি চালানো হয়েছে। তবে আইসিই-র দাবিকে পাত্তা দিতে নারাজ শহরের বুদ্ধিজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীরা। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে মিনিয়োপোলিসজুড়ে শুরু হয়ে বিক্ষোভ। আইসিই এজেন্টদের শহর ছেড়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন শহরের মেয়র জ্যাকব ফ্রে। তাঁর মতে, ওদের উপস্থিতি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে।
ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে বাড়ি ৩৭ বছর বয়সি রেনের। তাঁর মা ডোনা গ্যাঞ্জের বলেছেন, ‘ও হয়তো ভয় পেয়ে গাড়ি থামায়নি। তবে তাকে প্রাণে মেরে নির্বোধের পরিচয় দিয়েছি আইসিই।’ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, টিমি রে ম্যাকলিন জুনিয়রের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রেনের। ২০২৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁদের ছ’বছরের সন্তান রয়েছে। বর্তমানে এক ব্যক্তির সঙ্গে টুইন সিটিসে লিভ-ইনে ছিলেন রেনে। রেনে নিকোল গুড।