নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দকুমার: গ্রাহকদের থেকে টাকা তুলে পাসবইয়ে নকল স্ট্যাম্পের সিল মেরে প্রায় কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে তোলপাড় নন্দকুমার ব্লকের ব্যবত্তারহাট সাব পোস্ট অফিস। সোমবার বিকেল নাগাদ ওই ঘটনা সামনে আসে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই গ্রাহকরা পাসবই আপডেট করাতে লম্বা লাইন দেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় দেড়শো জনের আমানত নয়ছয় হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। সেইসব গ্রাহকরা প্রবল বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে নন্দকুমার থানার ওসি অর্কদীপ হালদার বিশাল বাহিনী নিয়ে পোস্ট অফিসে হাজির হন। নামানো হয় র্যাফ। পোস্ট অফিসের বাইরে পুলিশ মোতায়েন ছিল। ভেতরে পাসবই হাতে উদ্বিগ্ন গ্রাহকদের ভিড়। পাসবই চেক করার জন্য তাঁদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। আমানত খোয়া যাওয়া গ্রাহকরা অফিসের মধ্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিকালে অভিযুক্ত পোস্টাল এজেন্ট থানায় হাজির হন। প্রতারিত গ্রাহকরাও থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
নন্দকুমার থানার চক পুয়াদা গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা ওই যুবতী ব্যবত্তারহাট সাব পোস্ট অফিসে পোস্টাল এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। তিনি গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা সংগ্রহ করেন। তাঁদের পাসবইতে পোস্ট অফিসের সিল বসিয়ে দিতেন। এভাবে দেড়-দু’বছর ধরে প্রচুর সংখ্যক গ্রাহকদের থেকে টাকা তুলে পাসবইয়ে নকল স্ট্যাম্পের সিল মেরেছেন। লোকজন ভরসা করে তাঁর হাতে টাকা তুলে দিতেন। সোমবার বিকালে কয়েকজন গ্রাহক টাকা তুলতে এসে দেখেন, অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স নেই। অথচ, নিয়মিত টাকা দিয়ে গিয়েছেন। পাসবইতে টাকা দেওয়ার প্রমাণ আছে। তাহলে ওই টাকা কোথায় গেল? এনিয়ে হইচই পড়ে যায়। ওই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তারপর জানা যায়, ওই পোস্টাল এজেন্ট ভুয়ো স্ট্যাম্প বানিয়ে পাসবইয়ে সিল মেরে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
মঙ্গলবার পাসবই হাতে পোস্ট অফিসের সামনে কাঁদো কাঁদো মুখে দাঁড়িয়েছিলেন চক পুয়াদার মল্লিকা মাইতি। তিনি জানান, তাঁর অ্যাকাউন্টে ৯৩হাজার টাকা থাকার কথা। কিন্তু, ব্যালেন্স চেক করে দেখা যায়, ১৫হাজার টাকা পড়ে আছে। একইভাবে মোহন খাঁড়া, মহাদেব মণ্ডল, চন্দন দিণ্ডা, নারায়ণচন্দ্র খাঁড়া সহ অনেকের পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা। হরিহরপুর গ্রামের এক গ্রামীণ ডাক্তার ও তাঁর পরিচিত প্রায় ২০জন ৪০লক্ষ টাকা রেখেছিলেন। তাঁদের বড় অঙ্কের টাকা খোয়া গিয়েছে। সোমবারই ডাক বিভাগের মহিষাদলের ইন্সপেক্টর ওই সাব পোস্ট অফিসে গিয়ে ভিজিট করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্ষোভ, বিক্ষোভে উত্তাল ব্যবত্তারহাটের ওই পোস্ট অফিস। এদিন সকাল থেকে ওই পোস্টাল এজেন্টের হদিশ পাওয়া যায়নি। তাঁর দাদা নন্দকুমার থানার সিভিক ভলান্টিয়ার। বিকালে ওই এজেন্টকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে প্রতারণার শিকার মহাদেব মণ্ডল, সৌরভ বাগ, নারায়ণ সামন্ত, রিঙ্কু মণ্ডল বেরা সহ আরও অনেকে নন্দকুমার থানায় হাজির হন। তাঁরা সেখানেও বিক্ষোভ দেখান। এদিন থানায় ক্ষোভ, বিক্ষভের মধ্যেই খবর আসে বাখরাবাদে একটি তেল কাটিং কারখানায় ভয়াবহ আগুন লেগেছে। থানার ওসি সহ বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে রওনা দেন।
ব্যবত্তারহাট সাব পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার অনুপকুমার আদক বলেন, নকল স্ট্যাম্প বানিয়ে এই অনিয়ম করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত দেড়শো গ্রাহক প্রতারণার শিকার বলে আমাদের নজরে এসেছে। এই পোস্ট অফিসে প্রায় ২৫হাজার গ্রাহক আছেন। আমি বিষয়টি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পুলিশকেও জানানো হয়েছে। ডাকঘর গ্রাহকদের বিক্ষোভ।-নিজস্ব চিত্র