নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: গত বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় মা সহ দু’টি শাবক হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার খড়্গপুর ও ঝাড়গ্ৰাম বনবিভাগের আধিকারিকরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রেলপথে হাতির মৃত্যুর কারণ ও কার্যকরী পদক্ষেপ করা নিয়ে বৈঠক হয়। এদিন দক্ষিণবঙ্গের মুখ্য বনপাল(বন্যপ্রাণ) সন্দীপ সুন্দিরিয়াল বলেন, শাবকসহ তিনটি হাতির মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বনবিভাগ ও রেলের আধিকারিকরা যৌথভাবে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ খোঁজা হচ্ছে। সমস্যার সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বিষয়টি বোঝা যাবে। এদিন দুর্ঘটনাস্থলে দক্ষিণ-পূর্ব খড়্গপুর রেল ডিভিশনের এডিআরএম মনীষা গোয়েল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। ঝাড়গ্ৰামের বাঁশতলা রেলগেট থেকে খড়্গপুরের দিকে দীর্ঘ তারের ফেন্সিং ও লাইনের পাশে পাকা ড্রেন রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হাতির পালটি রেললাইন পেরিয়ে রামরামা জঙ্গলে পৌঁছনোর চেষ্টা করছিল। সেইসময় হাওড়া-বড়বিল জনশতাব্দী এক্সপ্রেস চলে আসায় হাতির পালটি রেললাইন ও ফেন্সিংয়ের মাঝে আটকে পড়ে। ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিবেগে ছুটে আসা ট্রেনের ধাক্কায় শাবক সহ মা হাতিটির মৃত্যু হয়।
আগে বাঁশতলা ও খেমাশুলি রেললাইনের মাঝে বড় জঙ্গল ছিল। সেগুলি এখন কয়েকটি ছোট জঙ্গলে ভাগ হয়ে গিয়েছে। হাতির পাল নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করে। তারপরেও রেললাইনের পাশে রেলদপ্তর তারের দীর্ঘ ফেন্সিং কেন দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঝাড়গ্রাম স্টেশন থেকে সরডিহা স্টেশনের দু’পাশে জনবসতি, হোম-স্টে গড়ে ওঠায় জঙ্গল ছোট হয়ে গিয়েছে। একাধিক জায়গায় বনবিভাগের দেওয়া তারের ফেন্সিংও রয়েছে। যার জেরে হাতির করিডোরের পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে গিয়েছে। ফলে চেনা রাস্তা না থাকায় হাতির পাল কম জনবসতিপূর্ণ এলাকা দিয়ে হঠাৎ করে রেললাইন পারাপার করছে। হাতির পাল রেললাইন কখন পার হবে, বেশিরভাগ সময় তা বনবিভাগের কর্মীরাও বুঝে উঠতে পারছেন না। রেলের তরফেও ঝাড়গ্রাম থেকে সরডিহা পর্যন্ত রাতে পেট্রলিং করা হয়। হাতির পালের যাতায়াতের ব্যাপারে তাঁরাও বুঝতে পারছেন না। শাবক সহ তিনটি হাতির মৃত্যুর ঘটনাটি জঙ্গল ছোট হয়ে যাওয়া ও করিডোর না থাকার বৃহত্তর সমস্যাটিকে সামনে এনে দিয়েছে।ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের তরফে ঝাড়গ্রাম জিআরপিতে হাতির মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। ঝাড়গ্রামের বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইছে। জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার তরফে জেলাশাসকের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অশোক মাহাত বলেন, রেল ও বনবিভাগের মধ্যে কোনও সমন্বয় নেই। জঙ্গলমহলে হাতি-রক্ষায় বাস্তবচিত কোনও পদক্ষেপ নেই। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পদক্ষেপ চাইছি।
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, বনবিভাগের তরফে ঝাড়গ্রাম জিআরপিতে হাতির মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। আগামিদিনে রেলের সঙ্গে বনবিভাগের সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে। • নিজস্ব চিত্র