নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বুনো শুয়োর তাড়ানোর জন্য মাটির নীচে পোঁতা বোমা ফেটে জখম হয়েছে একটি হাতি। স্থানীয় গ্রামের লোধা শবররা এমনই দাবি করেছেন। শুক্রবার ভোরে ভালুকমারির জঙ্গলে দলছুট একটি বুনো হাতি ঢুকে পড়ে। সেটিই ফসলের জমিতে ঢুকে জখম হয়। হাতি জখম হওয়ায় স্থানীয় টিয়াকাটি, ধাদডাঙ্গা ও হদহদি গ্ৰামের মানুষ হাতির দলের আক্রমণের আশঙ্কায় ভীত। তবে ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমামের দাবি, হাতির পাশে পটাকাটি ফাটে। হাতিটি জখম হয়নি। বনবিভাগের আধিকারিক ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে আছেন।
ঝাড়গ্রাম শহরের মাইলখানেক দূরে ভালুকমারির জঙ্গল। জঙ্গল লাগোয়া জমিতে স্থানীয় গ্ৰামবাসীরা ধান ও শাকসবজির চাষ করেন। বন্য শূকরের হামলা থেকে জমির ধান বাঁচাতে জঙ্গলের পথে, জমিতে ছোট বোমা পুঁতে রাখা হয়। মাটির উপর সামান্য চাপ পড়লেই সেই বোম ফেটে যায়। বন্যপ্রাণীরা গুরুতর জখম হয়। ফসল খেতে আসা দলছুট হাতিটি সেভাবেই জখম হয়েছে বলে গ্ৰামবাসীরা দাবি করছেন। হাতিটির জখম হওয়ার ঘটনায় জঙ্গল লাগলো গ্ৰামগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বনবিভাগের আধিকারিক ও কর্মীরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বনবিভাগের তরফে দাবি করা হয়েছে, হাতিটি জখম হয়নি। ভালুকমারির জঙ্গলেই হাতিটি ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে মাইলখানেক দূরে ভালুকমারির শাল জঙ্গল। জঙ্গল লাগোয়া আদিবাসী, জনজাতি ও লোধা শবরদের ছোট ছোট গ্ৰাম। টিয়াকাটি থেকে দক্ষিণে কিছুটা পেরলেই জঙ্গলের মধ্যে হদহদি ও ধাদডাঙ্গা গ্ৰাম। জঙ্গলের মাঝে ছোট ছোট জমিতে গ্ৰামবাসীরা ধান চাষ করেন। জঙ্গলের ছোট পথ ধরে জমিতে যেতে হয়। গ্ৰাম লাগোয়া জঙ্গলে মাঝে মধ্যেই হাতির পাল আসে। ধাদডাঙ্গার বাসিন্দা বছর কুড়ির যুবক রাজেশ শবর বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে দলছুট হাতিটি জঙ্গলে ঢুকেছিল। ভোরের দিকে বোমা ফাটার শব্দ পাই। গ্ৰামের কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, হাতিটি খোঁড়াতে খোঁড়াতে প্রাণভয়ে পালাচ্ছে। জখম না হলে অত বড় হাতি অমন খোঁড়াতো না। হাতি আঘাত পেলে আক্রমণকারী ও ঘটনাস্থল মনে রাখে। গ্ৰামের বাসিন্দারা সেই কারণেই আতঙ্কিত। হদহদি গ্ৰামের বাসিন্দা সুশীল মাহাত বলেন, এলাকায় বুনো শুয়োরের খুব উৎপাত। জমির ফসল খেয়ে চলে যায়। শুয়োর মারতে মাটির নীচে ছোট বোমা পুঁতে রাখা হয়। কিন্তু তাতে হাতি জখম হওয়ায় গ্ৰামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হাতিটি আবার ফিরে এসে আক্রমণ চালাতে পারে। গৃহবধূ খুকুরানি মাহাত বলেন, গ্ৰামে সবাই বলাবলি করছে, হাতিটি বদলা নিতে ফিরে আসতে পারে। ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের এক আধিকারিক বলেন, শূকর তাড়ানোর জন্য জমিতে বোমা ব্যবহার করা হয়। বনবিভাগের কর্মীরা এমন ঘটনার মধ্যে পড়েন। তবে তাতে কেউ আহত হয় না। হাতিটি জঙ্গলেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা নজর রেখেছি।