Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বড়জোড়ার জঙ্গলে ৬৩ হাতি, ঝুঁকি নিয়েই পর্যটকদের অনেকে সামনে গিয়ে ছবি তুলছেন, উদ্বেগ

হাতির পাল ঘাঁটি গেড়ে থাকায় বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের বড়জোড়ার জঙ্গল বর্তমানে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে

বড়জোড়ার জঙ্গলে ৬৩ হাতি, ঝুঁকি নিয়েই পর্যটকদের অনেকে সামনে গিয়ে ছবি তুলছেন, উদ্বেগ
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: হাতির পাল ঘাঁটি গেড়ে থাকায় বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের বড়জোড়ার জঙ্গল বর্তমানে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। বড়জোড়া রেঞ্জের বাঁধকানা, পাবয়া ও আশপাশের জঙ্গলে বর্তমানে ৬৫টিরও বেশি হাতি রয়েছে। হাতি দেখতে সেখানে প্রতিদিন শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে হাতির সামনে গিয়ে ছবি তুলছেন। অভিযোগ, বনদপ্তরের কর্মী-আধিকারিকদের আত্মীয়-স্বজনরাও সেখানে ভিড় করছেন। বনকর্মীরাই তাঁদের হাতির কাছে যাওয়ার রাস্তা করে দিচ্ছেন। ফলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল আশঙ্কা করছেন। হাতি সমস্যা নিয়ে সোমবার বিধানসভায় রাজ্যের বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার কাছে দরবার করেন বলে বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন। অলোকবাবু বলেন, এতদিন হাতিগুলি জঙ্গলের মধ্যেই ছিল। কিন্তু, খাবার ফুরিয়ে আসায় দাঁতালগুলি লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। হাতির খাবারের জোগান দিতে বনদপ্তর হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে, জঙ্গলে হাতি দেখতে বহু মানুষ ভিড় করছে। হাতির ‘মুড’ সবসময় ভালো থাকবে এমন নয়। বিরক্ত করলে যে কোনও সময় হাতি মানুষকে তাড়া করে পায়ে পিষে দিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে হাতিগুলিকে বড়জোড়া থেকে সরানোর আবেদন আমি বনমন্ত্রীর কাছে করেছি। বাঁকুড়া উত্তরের ডিএফও দেবাশিস মহিমাপ্রসাদ প্রধান বলেন, বড়জোড়ার জঙ্গল চিড়িয়াখানা নয়। ফলে সেখানে হাতির কাছে পর্যটকদের যাওয়ার কথা নয়। ছবি তুলতে গেলে বন্য পশু যে কোনও সময় আক্রমণ করতে পারে। কারা পর্যটকদের হাতির কাছাকাছি যেতে দিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না। রবিবার বাঁধকানার জঙ্গলে দাঁড়িয়ে কলকাতার বাসিন্দা অনামিকা চৌধুরী, কৃষ্ণনগরের সৌভিক দাস বলেন, দোল ও হোলির ছুটিতে আমরা মুকুটমণিপুর, শুশুনিয়া বেড়াতে এসেছিলাম। বাঁকুড়ার জঙ্গলে হাতির আনাগোনার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে দেখেছি। শুশুনিয়ায় পৌঁছে বড়জোড়ার জঙ্গলে হাতির পালের ঘাঁটি গেড়ে থাকার বিষয়টি জানতে পারি। সেখান থেকে সটান বাঁধকানার জঙ্গলে হাজির হই। বনকর্মীদের একাংশ হাতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ করে দেন। আমরা কাছ থেকেই হাতির ছবি তুলেছি। হাতিগুলি সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল। আমরা হাতিকে বিরক্ত করিনি। সেগুলিও আমাদের আক্রমণ করার মতো অবস্থায় ছিল না। বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, হাতির খাবার জোটাতে আমাদের নাভিশ্বাস উঠছে। একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি দিনে প্রায় এক কুইন্টাল খাবার খায়। বর্তমানে বাঁকুড়ার বড়জোড়া রেঞ্জের জঙ্গলে ৬৩টি হাতি রয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি দাঁতাল এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাতিগুলিকে প্রতিদিন ভরপেট খাওয়াতে কুইন্টাল কুইন্টাল কুমড়ো, কপি, শাক-পাতা শেষ হয়ে যাচ্ছে। খাবার না দিলে হাতির দল লোকালয়ে, ফসলের খেতে হামলা চালাবে। তা ঠেকাতে খাবারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। তবে হাতিকে আমরা তাড়িয়ে দিতে পারি না। জঙ্গলের মধ্যেই যাতে হাতি থাকে, তার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ