সংবাদদাতা, ফালাকাটা: লোকালয়ে হাতির হানায় বাড়ছে আতঙ্ক। কয়েকমাস ধরেই ফালাকাটা ব্লকের গ্রামীণ এলাকায় ঢুকে দাপাচ্ছে হাতি। শুক্রবার রাতে দাঁতাল হাতির হামলায় মৃত্যু হয় ৩৫ দিনের শিশু সহ পরিবারের তিনজনের। মর্মান্তিক ঘটনার পর কুঞ্জনগরের বাসিন্দারা আতঙ্কে সিঁটিয়ে আছেন। ভোরের আলো ফুটতেই গ্রামবাসীদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে বনদপ্তরের উপর। সুর চড়ান জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ মানিক রায়। সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টে পর্যন্ত সভাপতি মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে ফালাকাটা-কুঞ্জনগর রাজ্য সড়কে চলে অবরোধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসে পুলিস ও র্যাফ। ছ’ঘণ্টা পর বিডিও অনীক রায় ও আইসি অভিষেক ভট্টাচার্যের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বাসিন্দারা। এদিনই ওই পরিবারের হাতে ১৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেয় বনদপ্তর। মৃতরা হলেন মাখনরানি দাস (৬৮), মনোজিৎ দাস (৩২) এবং নবজাতক মনীষা দাস। কুঞ্জনগর গ্রামের বাসিন্দা তাঁরা। গভীর রাতে ১৫-১৬টি হাতির দল জলদাপাড়া জঙ্গল থেকে গ্রামে ঢোকে। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে শুরু করে তাণ্ডব। দলছুট হয়ে একটি হাতি ময়রারডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি মোড়ে আসে। মনোজিৎবাবু শৌচকর্ম করতে বাইরে আসতেই দাঁতালটি পিষে দেয় তাঁকে। ছেলের চিৎকার শুনে নাতনিকে নিয়ে বাইরে বের হন বৃদ্ধ মা মাখনরানি। উন্মত্ত দাঁতালটি বৃদ্ধাকেও পিষে দেয়। কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায় শিশুটি। এলাকাবাসী চিৎকার শুরু করলে হাতিটি চলে যায়। স্থানীয়রা তিনজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের মৃত বলে জানান চিকিৎসকরা।



