স্বপ্ন পূরণের কোনো বয়স হয় না। স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার কোনো সীমারেখা নেই। কয়েক বছর আগে এলিনা এরকোভা ফের সেকথাই মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। রাশিয়ান এই মহিলা ‘বাবা লীনা’ নামে জনপ্রিয় হয়েছিলেন। জীবনের অনেকটা সময় পরিবারকে দিয়েছেন। সংসারের দায়িত্ব সামলেছেন। সে সব করতে গিয়ে ভ্রমণের ইচ্ছে অনেক পিছনের সারিতে চলে গিয়েছিল। ৮৩ বছর বয়সে এসে এলিনা বেড়ানো শুরু করেন। তাঁর সেই জার্নি বহু মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়। ছোটো থেকেই বিভিন্ন দেশ দেখার শখ ছিল তাঁর। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। পাশাপাশি পারিবারিক দায়বদ্ধতাও ছিল। ৮৩ বছর বয়সে এসে তিনি মনে করেন, অনেক দায়িত্ব পালন করেছেন। বাকি জীবনটা নিজের জন্য বাঁচবেন। একাই ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েছিলেন। কিছুটা পেনশনের টাকা এবং বেড়ানোর বাকি খরচ তিনি জোগাড় করেছিলেন ফুল বিক্রি করে। শুরু করেন নিজের দেশ দিয়েই। রাশিয়ার নানা জায়গায় ভ্রমণের পর ধীরে ধীরে আকাঙ্ক্ষা বাড়ে। আরও অর্থ জোগাড় করার জন্য সূচিশিল্প শুরু করেন। তা বিক্রি করেও অর্থ উপার্জন হয়। আর তা দিয়েই ধীরে ধীরে জার্মানি, ইতালি, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম ঘোরেন তিনি। সে সব কাহিনি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেছেন। বর্ষীয়ান এলিনার এনার্জি দেখে মুগ্ধ হয় নেট দুনিয়া। ২০১৮ সালে ৯১ বছর বয়সে প্রয়াত হন এলিনা। মৃত্যুর পরও তিনি অগণিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন। এলিনার নামে একটি ভ্রমণ সংস্থা খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সে দেশের বেশ কিছু সংস্থা। যে কোনো বয়সে, যে কোনো পরিস্থিতিতে মহিলাদের বেড়াতে যাওয়ার স্বপ্নকে সত্যি করার পথে সাহায্য করবে তারা। একজন সাধারণ মহিলা হয়েও বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করে এলিনা উদাহরণ হয়ে থাকবেন বহুকাল। স্বপ্ন পূরণে যে ইচ্ছেটাই আসল, তার আসল উদাহরণই যেন এলিনা।



