Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাষের জমির উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিদ্যুতের তার! জেলায় ৬ মাসে প্রায় ১৫ জনের মৃত্যু

মুরারইয়ের রূপরামপুর গ্রামে জমিতে কাজ করার সময় ছিঁড়ে থাকা তারের সংস্পর্শে এসে বাবা ও ছেলের মৃত্যুতে বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠছে।

চাষের জমির উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিদ্যুতের তার! জেলায় ৬ মাসে প্রায় ১৫ জনের মৃত্যু
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মুরারইয়ের রূপরামপুর গ্রামে জমিতে কাজ করার সময় ছিঁড়ে থাকা তারের সংস্পর্শে এসে বাবা ও ছেলের মৃত্যুতে বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠছে। যত্রতত্র খুঁটির পরিবর্তে বাঁশ পুঁতে বিদ্যুতের তার অনেক দূরের জমিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই তারের সংযোগে সাবমার্সিবল পাম্প চলছে। বিদ্যুতের তার কোথাও খুঁটি ভেঙে ঝুলে পড়েছে, কোথাও কয়েক ফুট উচ্চতায় রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎদপ্তর ব্যবস্থা নিলেও অনেক ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এর আগেও একইরকম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বভাবতই আতঙ্কে ভুগছেন এলাকার বাসিন্দারা। যদিও বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দপ্তরের আধিকারিকরা। 

Advertisement

বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের রামপুরহাট মহকুমার ডিভিশনাল ম্যানেজার নীলাদ্রিশেখর সাহা বলেন, আমরা যখন সংযোগ দিই তখন ট্রান্সফর্মার, পোলে বা কোনও বাড়িতে মিটার থাকে। এবার সেখান থেকে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দূরবর্তী এলাকায় বিদ্যুতের তার নিয়ে গিয়ে সাবমার্সিবল চালাচ্ছে। তা আমাদের জানানো হয় না। যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। আমাদের দায়িত্ব মিটার পর্যন্ত। তারপর কে কী করছে জানা সম্ভব নয়। কোনও অভিযোগ এলে আমরা হস্তক্ষেপ করি।
গত ছ’মাসে রামপুরহাট মহকুমায় ছিঁড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তত ১৫জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মাঠে ঝুলে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একাধিক গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। রামপুরহাট মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় কোথাও বাঁশ, কোথাও গাছ কেটে পুঁতে বিঘার পর বিঘা জমির উপর দিয়ে বিদ্যুতের তার নিয়ে গিয়ে সেচপাম্প চলছে। সামান্য বাতাসে তার দুলছে। কোথাও আবার খুঁটি বেঁকে তার ঝুলে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে জমিতে কাজ করছেন কৃষকরা। প্রাণহানিও ঘটছে। চলতি জুলাই মাসে জমিতে পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শ্রমিক সহ তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে রবিবার বিকেলে জমিতে ছিঁড়ে পড়ে থাকা তারের সংস্পর্শে এসে মৃত্যু হয়েছে মুরারইয়ের রূপনারায়ণপুর গ্রামের সাদেক শেখ ও ছেলে সাকিরুল শেখের। তাঁরা জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, বাঁশের খুঁটি পুঁতে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই তার ছিঁড়ে জমিতে পড়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এভাবে জমির উপর দিয়ে বাঁশ পুঁতে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাওয়া হলেও বিদ্যুৎদপ্তর কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় না। নজরদারিও সেভাবে চালানো হয় না। 
মুরারইয়ের বাসিন্দা রব্বেকুল আলম বলেন, বাঁশ পুঁতে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জলে বহু বাঁশ পচে গিয়ে ভেঙে তার ঝুলে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকলেও সংস্কার করা হচ্ছে না। বিদ্যুৎদপ্তরের গাফিলতির কারণে এই ধরণের দুর্ঘটনা ঘটছে। পলশা পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা তৃণমূলের এসসি সেলের ব্লক সভাপতি অষ্টম রবিদাস বলেন, বিদ্যুৎদপ্তরের কর্মীরা যখন মিটার রিডিং নিতে যাচ্ছেন তখন তো তাঁরা দেখছেন। তাহলে গাফলতি তো তাঁদের। এটা বিদ্যুৎদপ্তরের দেখা উচিত। তাহলে এধরনের মৃত্যু কমে আসবে। ডিভিশনাল ম্যানেজার বলেন, মুরারইয়ে বাবা ও ছেলের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় নিয়ম অনুযায়ী ওই সাবমার্সিবল মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ