নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজন সহ আগামী এপ্রিলে খালি হতে চলা রাজ্যসভার ৩৭ আসনের ভোট ঘোষণা করে দিল নির্বাচন কমিশন। ১০ রাজ্যে এই ভোট হবে আগামী ১৬ মার্চ। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু মনোনয়ন জমা দেওয়া। শেষ ৫ মার্চ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আগামী ১৬ মার্চই শেষ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের রাজসভার মেয়াদ। ওই পদে কি এবার বাংলার কোনো প্রতিষ্ঠিতকে বসাবে মোদি সরকার? সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। তাই তার আগে বাংলার কাউকেই রাষ্ট্রপতি মনোনীত করে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেই রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন। ঠিক যেভাবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ‘ভারতরত্ন’ দিয়ে বাংলার মন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মোদি। রাজ্যসভার এই ভোটে নিশ্চিতভাবেই অ্যাডভান্টেজ বিজেপি। তাদের নয় সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। কিন্তু সব ঠিক থাকলে ১৫-১৮ আসন তারা পেতে পারে। কংগ্রেস পেতে পারে চারটি আসন। তামিলনাড়ুর ছ’টি আসনের মধ্যে ডিএমকের চারজন নিশ্চিত। বিরোধী এআইএডিএমকে একটি আসন পাবেই। বাকি আসনে লড়াই তুঙ্গে।
আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ আসনের মধ্যে তৃণমূল পাবে চারটি। একটি বিজেপি। লোকসভা, বিধানসভার পর এবার বাংলা থেকে রাজ্যসভায় সিপিএম শূন্য হতে চলেছে। আগামী ২ এপ্রিল মেয়াদ শেষ হচ্ছে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর। একইভাবে তৃণমূলের সুব্রত বক্সি, সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মৌসম নুর গত ৫ জানুয়ারি ইস্তফা দিয়েছেন। চার তৃণমূল প্রার্থীর নাম শীঘ্রই ঘোষণা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের একাংশ চায়, পঞ্চম আসনেও প্রার্থী দিক তৃণমূল। একজন রাজ্যসভার প্রার্থীকে জয়ী হতে গেলে ৪৯ জন বিধায়কের ভোট প্রয়োজন। ফলে বিধায়ক সংখ্যা নিরিখে তৃণমূলের চারটি আসনে জয় নিশ্চিত। বাকি একটি আসনে বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে বিজেপি জয়ী হবে। যাঁরা এবার রাজ্যসভার সাংসদ হবেন, তাদের মেয়াদ শেষ হবে ২০৩২ সালে। অর্থাৎ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন তো বটেই, পরের নির্বাচনও তাঁরা পার করে দেবেন।
এআইসিসি সূত্রে খবর, তেলেঙ্গানা থেকে ফিরবেন কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিংভি। হরিয়ানায় একটি আসন পাবে কংগ্রেস। কিন্তু দাবিদার তিনজন। হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর হুডা এখন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। কংগ্রেস হাইকমান্ডকে তাঁর প্রস্তাব, পুরনো বন্ধু আনন্দ শর্মাকে টিকিট দেওয়া হোক। অন্যদিকে, দলের দুই তাবড় মুখপাত্র পবন খেরা এবং সুপ্রিয়া শ্রীনেতও চাইছেন প্রার্থী হতে।
ওদিকে, মহারাষ্ট্রে সাতটি আসন খালি হচ্ছে। এর মধ্যে আছেন শারদ পাওয়ারও। যদিও রাজ্য বিধানসভার যা হাল, সেক্ষেত্রে বিজেপি বিরোধীরা একটি আসন পেতে পারেন। তাও যদি শারদ পাওয়ার পন্থী এনসিপি, উদ্ধব থ্যাকারে পন্থী শিবসেনা এবং কংগ্রেস একজোট হয়, তবেই। বিজেপি চেষ্টা করবে সাত আসনই ছিনিয়ে নিতে। তাই বিরোধীরা ঠিক করেছে, সম্মিলিতভাবে একজনকে পাঠানো হবে। শারদ পাওয়ার দাঁড়াতে না চাইলে কংগ্রেস
আসনটি চাইবে। শিবসেনা আবারও চাইছে হয় উদ্ধব থ্যাকারে, নাহলে প্রিয়াঙ্কা চতুবেদীকেই ফের সদস্য করা হোক। চলতি বছরে চার মন্ত্রীর রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হবে। তার মধ্যে দুজনের ভোট আগামী ১৬ মার্চ। বাকি পরে।