নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এক সময় উত্তর ২৪ পরগনার গ্রামীণ রাজনীতিতে বামেদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি ছিল শাসন। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর ধীরে ধীরে সেখান থেকে সরে গিয়েছিল লাল ঝান্ডার দৃশ্য। বড়ো সভা-সমাবেশও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন নতুন পরিস্থিতিতে রবিবার সন্ধ্যায় শাসনের গোলাবাড়ি বাজারে প্রায় ১৫ বছর পর বড়ো আকারে প্রকাশ্য সভা করে রাজনৈতিক বার্তা দিল সিপিএম। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন পর শাসনের মাটিতে এ যেন বামেদের ফিরে আসার ঘোষণাপর্ব। ‘ফেরাতে ভোটাধিকার, রুখতে বুলডোজার’ শীর্ষক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ। বক্তৃতার শুরু থেকেই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সুর নেন। তাঁর দাবি, বিজেপি হিন্দুদের দল নয়, বিজেপি বড়লোকদের দল। যে মানুষের শত্রু, সে সব ধর্মেরই শত্রু। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে গণতান্ত্রিক অধিকার, জীবিকার সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ। বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। বলেন, নতুন করে সিপিএম গড়ে তোলাই এখন প্রধান কাজ। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে জেলে যেতে হলেও যাব। সব রঙের পতাকা বিক্রি হয়ে গেলেও লালঝান্ডা বিক্রি হয় না। তৃণমূল ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এক থেকে দেড় বছর আমরা বিরোধিতা করতে পারিনি। কিন্তু বিজেপি একমাস ক্ষমতায় এসেছে। সিপিএম লড়ছে বুলডোজারের বিরুদ্ধে। সভা থেকে সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক পলাশ দাস হকার উচ্ছেদ, প্রিপেড স্মার্ট মিটার এবং বুলডোজার রাজের বিরুদ্ধে সরব হন।



