নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভুয়ো প্যান ও আধার কার্ড দিয়ে অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম তোলার ঘটনায় অভিযুক্ত তমলুক ব্লকের ওসি ইলেকশন সুদীপ্ত দাস। নির্বাচন কমিশন তাঁকে সাসপেন্ড করেছে। তিনি ময়না বিধানসভা অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারও। একইসঙ্গে ভুয়ো ভোটারের ঘটনায় সাসপেন্ড হয়েছেন ময়না বিধানসভার ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) বিপ্লব সরকারও। ওই ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, তমলুক ব্লকে মোট ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। তারমধ্যে পাঁচটি পঞ্চায়েত ময়না বিধানসভা, চারটি পঞ্চায়েত তমলুক বিধানসভা এবং তিনটি নন্দকুমার বিধানসভার মধ্যে পড়ে। তমলুক বিডিও অফিসে বসে অভিযুক্ত ওসি ইলেকশন ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভার কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ১৩৫ জন অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম লিস্টে তুলেছেন। এই ঘটনায় গোটা জেলা প্রশাসন লজ্জিত। আমরা অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিষয়টি জেনেছি। তারপরই তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে শোকজ করার পর সাসপেন্ডও করা হয়।
উল্লেখ্য, নন্দকুমার ও ময়না বিধানসভার প্রায় ১৩৫ জন ভূতুড়ে ভোটারের হদিশ পায় নির্বাচন কমিশন। নন্দকুমার বিধানসভায় ৫৯ জন এবং ময়না বিধানসভায় ৭৬ জন। ভুয়ো প্যান ও আধার দিয়ে অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম তোলা হয়েছে। এক্ষেত্রে নিয়ম মেনে বুথ লেভেল অফিসার ফিল্ড ভিজিট করেননি। বিএলও-র রিপোর্ট ছাড়াই তাঁদের নাম ভোটার তালিকা তোলা হয়েছিল। আধার ও প্যান আবছা। কার মদতে ওই সরকারি কর্মী এমন কাজ করলেন এখন সেটাই আতস কাচের তলায়। ওই কর্মীর কেস হিস্ট্রিও জোগাড় করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি সোনারপুরে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভায় ভূতুড়ে ভোটারের নাম তালিকায় তোলা নিয়ে কমিশন কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। আগেই ময়নার ইআরওকে ডেকে সতর্ক করা হয়। নন্দকুমার বিধানসভাতেও ৫৯ জন ভুয়ো ভোটারের নাম তালিকায় তোলা হয়। কীভাবে অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম তালিকায় তোলা হল তা নিয়ে ফিল্ড লেভেল এনকোয়ারি করে জেলা প্রশাসন। তাতেই জানা যায়, তমলুক বিডিও অফিসের এক্সটেনশন অফিসার তথা অফিসার ইন-চার্জ ইলেকশন এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন। কীসের ভিত্তিতে এতবড় অনিয়মে জড়ালেন তার তদন্ত শুরু হয়েছে। আপাতত তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই অনিয়ম কীভাবে ইআরও-র নজর এড়াল সেজন্য ময়না বিধানসভার ইআরও তথা পূর্ব মেদিনীপুরের সংখ্যালঘু দপ্তরের উন্নয়ন অফিসারকেও সাসপেন্ড করেছে কমিশন।
তমলুক ব্লকের অনন্তপুর-১ ও ২, নীলকুণ্ঠ্যা, শ্রীরামপুর-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত ময়না বিধানসভার মধ্যে পড়ে। ভূতুড়ে ভোটার এন্ট্রির কাজটা ওই কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতেই ঘটেছে। পাশাপাশি তমলুক ব্লকের বিষ্ণুবাড়-১, পদুমপুর-১ ও ২ পঞ্চায়েত নন্দকুমার বিধানসভার মধ্যে পড়ে। ওই তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতেও অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম তালিকায় তোলা হয়েছে। তমলুক বিডিও অফিসে এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেখানকার ওসি ইলেকশন এই ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য। প্রতীকী চিত্র