নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে এবার সরাসরি ধাক্কা হাওড়ার উনসানির পতাকা ব্যবসায়। দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের জেরে আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন। ফলে আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে পুরানো নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না কোনোপক্ষই। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে এখন কার্যত মাথায় হাত উনসানির পতাকা প্রস্তুতকারীদের।
উনসানির বাসিন্দা রাজু হালদার, ইমরান হালদারদের পরিবারের কয়েক প্রজন্মের পেশা পতাকা তৈরি। সারা বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা তৈরি করেন তাঁরা। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, দেশের একাধিক রাজ্যেও তাঁদের তৈরি পতাকা যায়। সেই ব্যবসার অন্যতম বড়ো ভরসা ছিল তৃণমূলের ঘাসফুলের পতাকা। ফলে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। পতাকা প্রস্তুতকারীদের দাবি, তৃণমূলের জন্য ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ পতাকা তৈরি করে রাখা হয়েছে। রাজু হালদারের কথায়, প্রায় ৪ লক্ষ ঘাসফুলের পতাকা এখন স্টকে রয়েছে। আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তত ৫০ হাজার পতাকা বিক্রি হবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। কিন্তু কমিশনের সিদ্ধান্তের পর সেই হিসাব পুরো উলটে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘প্রতীকটাই যদি ব্যবহার করা না যায়, তাহলে তৈরি করে রাখা এই পতাকাগুলির কী হবে? শেষ পর্যন্ত ফেলে দিয়ে নষ্ট করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে কি না, সেটাই এখন চিন্তার।’
শুধু পতাকা বিক্রি নয়, ভবিষ্যতের ব্যবসা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের। কারণ পতাকা প্রস্তুতকারীদের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলেও স্থানীয়ভাবে সেই দলের পতাকা তৈরির বাজার তৈরি হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, মূলত গুজরাত থেকে বিজেপির ব্যানার-পতাকা প্রস্তুত হয়ে আসছে। ফলে তৃণমূলের বিপুল অর্ডারের উপর নির্ভর করা এই ব্যবসায় প্রতীকের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে। একদিকে মজুত হয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ টাকার পতাকা, অন্যদিকে নতুন প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তা— এই দুইয়ের মাঝেই এখন ভবিষ্যৎ ব্যবসার হিসাব কষছেন উনসানির পতাকা প্রস্তুতকারীরা। নিজস্ব চিত্র