নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ভদ্রেশ্বরের গৌরহাটি ইএসআই হাসপাতাল থেকে এক বৃদ্ধা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। পরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয় গঙ্গা থেকে। বুধবার এ বিষয়ে হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন মৃতার ছেলে। থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর এনিয়ে হইচই পড়েছে। মৃতার পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব এড়াতে গিয়ে বলেছে যে, ওই বৃদ্ধা রোগী নিজেই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে ওই রোগিণী হাঁটতে পারতেন না। আবার, হাসপাতালে দু’জন মহিলা আয়া রাখা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধেও গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে মৃতার পরিবার।
চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম সীতাদেবী প্রসাদ (৬৬)। তিনি ভদ্রেশ্বরের এস কে পালচৌধুরী স্ট্রিটের বাসিন্দা ছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতার ছেলে পরিমল প্রসাদ স্থানীয় একটি জুটমিলের কর্মী। তিনি বলেন, আমার মা মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করলেও তাঁর সন্ধান পাইনি। পরে তাঁকে আমরা জরুরি বিভাগে দেখতে পাই। জলে ডুবে যাওয়া রোগী হিসেবে কেউ তাঁকে হাসপাতালে এনেছিলেন। তখন চিকিৎসকরা জানান, মা মারা গিয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, মা নিজেই বেরিয়ে গিয়েছেন এবং গঙ্গায় পড়ে গিয়েছেন। কিন্তু মা হাঁটতে পারতেন না। আমি থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। পরিমলের ভাই সুনীল প্রসাদ বলেন, হাসপাতাল থেকে গঙ্গা অন্তত দেড়শো মিটার দূরে। অতটা পথ তাঁর হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি তাঁর শরীরে গঙ্গার কাদার দাগও আমরা দেখিনি। আমরা দু’জন আয়া রেখেছিলাম। প্রত্যেকে দিনে ৫০০ টাকা করে নিতেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি তাঁরাও নজরদারি করেননি। এনিয়ে হাসপাতালের সুপার ডাঃ সোমনাথ পান্ডে বলেন, আয়ারা হাসপাতালের কেউ নন। তবে ওই রোগিণী কীভাবে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেলেন, তা আমরা খোঁজ করে দেখছি। নিরাপত্তা কর্মীদের শো-কজ করা হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর গৌরহাটি ইএসআই হাসপাতালে কিডনির সমস্যা নিয়ে ভরতি হয়েছিলেন সীতাদেবী। তিনি দোতলার একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে খাবার দিতে এসে আত্মীয়রা দেখেন তিনি বিছানায় নেই। এরপর খোঁজখবর শুরু হয়। পরে জরুরি বিভাগে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।