Bartaman Logo
৩ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রতারকদের ‘টাকা’র টোপ গিলে সোনার গয়না খোয়ালেন বৃদ্ধা, তদন্তে জিআরপি

প্রথমে বৃদ্ধাকে মা বলে সম্বোধন করে আলাপ জমায় দুই আগন্তুক। তারপর কথায় কথায় বৃদ্ধাকে তারা জানায়, তাদের কাছে বেশ কিছু টাকা আছে।

প্রতারকদের ‘টাকা’র টোপ গিলে সোনার গয়না খোয়ালেন বৃদ্ধা, তদন্তে জিআরপি
  • ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: প্রথমে বৃদ্ধাকে মা বলে সম্বোধন করে আলাপ জমায় দুই আগন্তুক। তারপর কথায় কথায় বৃদ্ধাকে তারা জানায়, তাদের কাছে বেশ কিছু টাকা আছে। সেই নগদ রাখার একটা জায়গা খুঁজছে তারা। তিনি যদি টাকাগুলি রাখেন, তাহলে তাঁকেও ভাগ দেওয়া হবে। প্রতারকদের এই টোপ গিলে লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না খোয়ালেন বৃদ্ধা। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে লেক গার্ডেন্স রেল স্টেশনে। অলঙ্কার হাতানোর পর উধাও হয়ে যায় দুই জালিয়াত। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে বালিগঞ্জ জিআরপি।

Advertisement

রেল পুলিশ সূত্রে খবর, রাসবিহারী এলাকার বাসিন্দা শিবানী সর্দারের  দক্ষিণ বারাসতেও বাড়ি রয়েছে। তিনি মাঝেমধ্যেই সেখানে যান। অন্যান্য সময় কেউ না কেউ তাঁর সঙ্গে থাকেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে সেখানে যাবেন বলে তিনি একাই  বাড়ি থেকে বেরন। সকাল ৮টা নাগাদ নামখানা লোকাল ধরতে চলে আসেন টালিগঞ্জ স্টেশনে। তাঁর হাতে ছিল একটি চটের ব্যাগ। ট্রেনের জন্য ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎই দুই মাঝবয়সি যুবক তাঁকে মা বলে সম্বোধন করে জানতে চান, কোথায় যাবেন? বৃদ্ধা সরল মনে জানান, দক্ষিণ বারাসত। মিনিট পাঁচেক কথাবার্তা চলার পর শিবানীদেবীকে তারা জানায়, ব্যাগ ভরতি টাকা রয়েছে তাদের কাছে। কিন্তু সেটি রাখার জায়গা পাচ্ছে না তারা। এসব কথার মধ্যে ট্রেন এসে গেলে একই কামরায় ওঠে তিনজন। বৃদ্ধাকে তারা বলে, ওই টাকা তাঁর বাড়িতে রাখলে ভাগ দেওয়া হবে। কয়েক মিনিটের মধ্যে তারা বৃদ্ধাকে রাজিও করে ফেলে। এরপর বৃদ্ধা তাদের সঙ্গে লেক গার্ডেন্স স্টেশনে নেমে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্টেশন থেকে বেরিয়ে লেক গার্ডেন্স ফ্লাইওভারের কাছে শিবানীদেবীকে নিয়ে আসে দু’জন। প্রতারকদের একজন বৃদ্ধার কাছে থাকা ব্যাগটি নেয়। বলে, ‘আপনার কষ্ট হচ্ছে, আমাকে দিন।’ ব্যাগ নিয়ে ওই যুবক বৃদ্ধা ও আরেক যুবকের থেকে কিছুটা পিছনে হাঁটছিল। লেক গার্ডেন্স ফ্লাইওভারের কাছে এসে তারা শিবানীদেবীকে বলে যে টাকা ব্যাগে ভরে দিয়েছে। এবার তাঁকে ব্যাগ নিয়ে দক্ষিণ বারাসত চলে যেতে বলে। পরে সেখানে গিয়ে তারা টাকা ভাগ করে নেবে। তারা টাকা নিয়ে গেলে পুলিশ সন্দেহ করবে বলেই এভাবে ব্যবস্থা করতে হল বলে বৃদ্ধাকে আশ্বস্ত করে তারা। তবে বৃদ্ধা যাতে সব টাকা নিয়ে উধাও না হতে পারে, তার জন্য তাঁকে সোনার দু’টি বালা ও কানের দুল জমা রাখতে বলে। শিবানীদেবী সেগুলি জমা দিয়ে দেন তাদের কাছে। এরপর তাঁকে একটি বাসে তুলে দেয় অভিযুক্তরা। শিবানীদেবী যাদবপুরে নেমে স্টেশনে পৌঁছান। এরপর ট্রেন ধরে দক্ষিণ বারাসতের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে ব্যাগ খুলে দেখেন, টাকা নয় কাগজ ভরতি রয়েছে। বৃদ্ধা বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি। ফোন করে ছেলেকে ডেকে পাঠান। তিনি সেখানে গেলে গোটা ঘটনা ছেলেকে জানান। প্রথমে তাঁরা রবীন্দ্রসরোবর থানায় যান। থানার অফিসাররা তাঁদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাঁরা বুঝতে পারেন যে ঘটনাটি মিথ্যা নয়। কিন্তু রেল পুলিশের এলাকা হওয়ায় থানার অফিসাররা তাঁদের নিয়ে আসেন বালিগঞ্জ জিআরপিতে। সেখানে অভিযোগ করেন শিবানীদেবী। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যে দুই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে। তাদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ