নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গত পাঁচ বছরে বাঁকুড়া পুরসভায় বার্ধক্য ভাতার নতুন কোটা আসেনি। ফলে পুর এলাকার নতুন আবেদনকারীরা পাঁচ বছর ধরে বার্ধক্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পুর ভবনে আবেদনপত্রের পাহাড় জমে গিয়েছে। প্রথম থেকে অষ্টম পর্যায়ের দুয়ারে সরকারের শিবিরেই প্রায় সাড়ে ৩ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে কাউন্সিলারদের মাধ্যমেও অনেকে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনপত্র পাঠিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউই ভাতা পাননি। পরিশ্রম করে উপার্জনের শক্তি নেই শরীরে। সঙ্কটে দিন কাটছে বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধার। আবেদনকারীদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে মারাও গিয়েছেন। তাই অবিলম্বে ভাতা দেওয়ার কাজ শুরুর আবেদন জানিয়েছেন দরিদ্র বৃদ্ধবৃদ্ধারা।
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেন মজুমদার বলেন, ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল পেনশন স্কিম সহ অন্যান্য প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে পুর এলাকার প্রায় ন’হাজার জন বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। এছাড়াও রাজ্যের জয় বাংলা প্রকল্পের আওতায় মহকুমা শাসকের দপ্তরের মাধ্যমে দেড় হাজার জন ভাতা পান। মাথা পিছু এক হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়।
দুয়ারে সরকারের গত আটটি শিবিরে ৩ হাজার ৪৮৭টি নতুন আবেদনপত্র জমা পড়েছে। সেইসব আবেদনপত্র পরীক্ষা করার পর নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘হার্ড কপি’ মহকুমা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হচ্ছে। চেয়ারম্যান আরও বলেন, আগে ভাতার জন্য পুরসভা পিছু নির্দিষ্ট কোটা সিস্টেম চালু ছিল। কেউ মারা গেলে সেই জায়গায় ‘ওয়েটিং লিস্ট’ বা অপেক্ষমানদের থেকে নতুন কাউকে অন্তর্ভূক্ত করা হতো। কিন্তু, গত পাঁচ বছরে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নতুন করে আর ভাতার কোটাও বৃদ্ধি করা হয়নি।
বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা অনুভা দত্ত, সুকুমার রজক বলেন, আমরা দুয়ারে সরকার শিবিরে বার্ধক্য ভাতার জন্য বেশ কয়েকমাস আগে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলাম। দ্রুত ভাতা দেওয়া হবে বলে নির্বাচনের আগে আমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ভোট মিটে যাওয়ার পর সবকিছু ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনেকেরই শরীরে জোর থাকে না। অসুস্থ অবস্থায় ভাতার জন্য বারবার পুরসভায় গিয়ে খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয় না। সরকার দ্রুত ভাতা চালু করলে ওষুধের টাকার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।