Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সাক্ষী থাকতে দুর্গাপুর থেকে দীঘা আসার পথে বেলদায় আক্রান্ত বৃদ্ধ

জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের সাক্ষী থাকতে সাইকেলে দুর্গাপুর থেকে দীঘা আসার পথে বেলদায় আক্রান্ত হলেন স্বপনকুমার ঘোষ

জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সাক্ষী থাকতে দুর্গাপুর থেকে দীঘা আসার পথে বেলদায় আক্রান্ত বৃদ্ধ
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘা: জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের সাক্ষী থাকতে সাইকেলে দুর্গাপুর থেকে দীঘা আসার পথে বেলদায় আক্রান্ত হলেন স্বপনকুমার ঘোষ। সম্প্রীতির বার্তা দিতে ৩৪বছরের পুরনো সাইকেলে জাতীয় পতাকা বেঁধে দুর্গাপুর থেকে দীঘা রওনা দিয়েছিলেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় বেলদায় রাত্রিবাস করার জন্য একটি ধাবায় যান। সেখানে তাঁর পরিচয় ও পতাকা বাঁধার উদ্দেশ্য নিয়ে জেরা করা হয়। তারপরই টানাহ্যাঁচড়া শুরু হয়। এর আগেও সাইকেলে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে স্বপনবাবু কুম্ভমেলা গিয়েছেন। কিন্তু, দীঘা আসার পথে এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন ভাবতে পারেননি। 

Advertisement

পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বপনবাবু সাইকেলে জাতীয় পতাকা বেঁধে শনিবার দুর্গাপুর থেকে দীঘা যাত্রা শুরু করছিলেন। বেলদার কাছে তাঁকে নিগ্রহ করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। স্বপনবাবু পেশায় রং মিস্ত্রি। বাড়ি নদীয়া জেলার করিমপুরে। যদিও কর্মসূত্রে দুর্গাপুরে থাকেন। একসময় চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েন। বাসভাড়া বাঁচাতে দুর্গাপুর থেকে সাইকেলে করে পৈতৃক বাড়ি করিমপুরে যেতেন। সেই থেকে দূরবর্তী এলাকায় সাইকেলে যাওয়া অভ্যাস হয়ে যায়। সম্প্রীতি ও স্বচ্ছতার বার্তা দিতে এরআগে প্রয়াগের কুম্ভমেলায় সাইকেল চালিয়ে গিয়েছিলেন। দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে তিনি সাইকেলে জাতীয় পতাকা বেঁধে যাওয়ার পরিকল্পনা নেন। শনিবার ঩যাত্রা শুরু করেন। সেসময় জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথবাবুও উপস্থিত ছিলেন। 
এদিন দীঘায় দাঁড়িয়ে স্বপনবাবু বলেন, জাতীয় পতাকা নিয়ে সাইকেলে আসার পথে এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হব ভাবতে পারিনি। আমি রাতে থাকার জন্য ধাবায় গিয়েছিলাম। তখন আমায় নানা প্রশ্ন করা হয়। টানাহ্যাঁচড়া করার পর আমি বাধ্য হয়ে ওই জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে যাই। অন্য জায়গায় রাত কাটিয়েছি। আমার কাছে পরিচয়পত্র ছিল। নাম ও ঠিকানা দেখিয়ে রেহাই পা‌ই। আমাকে হুমকির সুরে বলা হয়, পূর্ব মেদিনীপুর বিজেপির দুর্গ। সেখানে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারি।
স্বপনবাবুর মতো গোটা রাজ্য থেকে বহু ভক্ত দীঘায় এসেছেন। মঙ্গলবার মহাযজ্ঞ ছিল। বিভিন্ন জেলায় সেই অনুষ্ঠান জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয়। দীঘার এই জগন্নাথ মন্দির ঘিরে গোটা রাজ্যে একটা উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। এরকম এক পরিবেশে স্বপনবাবুর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার নিন্দা করেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডা বলেন, স্বপনবাবুর সঙ্গে যা হয়েছে তা নিন্দনীয়। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক গৌরীশঙ্কর অধিকারী বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমরা কখনও হিন্দু দেবদেবীর মন্দিরে যাওয়া কাউকে হেনস্তা করি না। এরকম কোনও ঘটনার কথা আমাদের কানে আসেনি। কেউ করে থাকলে তারা আমাদের দলের নয়।  স্বপনকুমার ঘোষ।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ