সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: এক প্রৌঢ়কে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল রঘুনাথগঞ্জের গিরিয়ায়। সোমবার ভর সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম মহম্মদ বাবলু (৫২)। তাঁর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ থানার গিরিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের পাতলাটোলা গ্রামে। রাজনৈতিক কারণে পূর্ব গোলমালের জেরেই খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। পুলিস দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, এদিন বাড়ির পাশে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন বাবলু। আচমকাই কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে রড দিয়ে তাঁকে আঘাত করতে থাকে। দুষ্কৃতীরা সকলেই উপপ্রধানের অনুগামী বলে অভিযোগ। বাবলুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। খুনের ঘটনায় উপপ্রধানের দুই ভাই তানজিল শেখ ও আসগর শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তাদের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের গণ্ডগোল ছিল বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক বিবাদও ছিল। জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার অমিতকুমার সাউ বলেন, খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১০ দিনের পুলিসি হেফাজত চেয়ে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করা হবে।
জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক গণ্ডগোলের পর দশমাস পরে ঘরে ফেরে এলাকার সাতটি পরিবারের বেশ কয়েকজন পুরুষ সদস্য। আর কোনও গোলমাল হবে না আশ্বাস পেয়ে তাঁরা ঘরে ফিরেছিলেন। গিরিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৃণমূল কংগ্রেসের কারু শেখ ঘর ছাড়াদের আশ্বস্ত করেন বলে এলাকাবাসীর দাবি। আশ্বাস পেয়ে ঈদ পরব উপলক্ষ্যে ঘরছাড়ারা ফিরে আসেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাবলুও। এদিন সন্ধ্যায় পাড়ার মোড়ে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। তখনই দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিছুক্ষণ পরেই সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের ভাইপো জামিরুল শেখ জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, গত লোকসভা নির্বাচনে ওই এলাকার একটি বুথে কংগ্রেস ১০০ বেশি ভোট পায়। তা নিয়েই এলাকায় গণ্ডগোল বাধে। আমরা অনেকেই বাড়িছাড়া ছিলাম। উপপ্রধান কারু শেখের লোকজন কাকুকে পিটিয়ে খুন করেছে।
ঘটনার পর এলাকায় পুলিস পিকেটিং বসানো হয়েছে। চারিদিকে থমথমে অবস্থা। এ বিষয়ে কারু শেখকে ফোন করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনের সুইচ অফ ছিল। থাকায় কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বাড়িতে গিয়েও তাঁর দেখা মেলেনি। তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। রঘুনাথগঞ্জ ২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ইউসুফ শেখ বলেন, নিজেদের ব্যক্তিগত গণ্ডগোল বলে জেনেছি। এরসঙ্গে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক নেই। দোষীদের গ্রেপ্তার করে সাজা দিক পুলিস।