Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রৌঢ়কে কুপিয়ে খুন স্ত্রী ও সৎ ছেলের, পরে থানায় আত্মসমর্পণ

ফের নৃশংস খুনের ঘটনা ইংলিশবাজার শহরে। খুনের ভয়াবহতা শুধু ইংলিশবাজার পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদেরই আতঙ্কিত করেছে তাই নয়।

প্রৌঢ়কে কুপিয়ে খুন স্ত্রী ও সৎ ছেলের, পরে থানায় আত্মসমর্পণ
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মালদহ: ফের নৃশংস খুনের ঘটনা ইংলিশবাজার শহরে। খুনের ভয়াবহতা শুধু ইংলিশবাজার পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদেরই আতঙ্কিত করেছে তাই নয়। আতঙ্ক গ্রাস করেছে পুরসভার স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলারকেও। এক প্রৌঢ়কে রবিবার রাতে মুখ হাত-পা বেঁধে নৃশংস ভাবে  কুপিয়ে খুন করা হয়েছে ওই ওয়ার্ডের নরসিং কুপ্পা এলাকায়। অভিযোগের তির মৃত যদুভূষণ দাসের (৪৬) স্ত্রী দয়া দাস এবং সত্‌ ছেলে বিক্রম মণ্ডলের দিকে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, খুনের পর তারা নিজেরাই ইংলিশবাজার থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। পরে অবশ্য দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে মালদহ মেডিক্যালে। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে মুখ ও হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয় ওই ব্যক্তিকে। কিন্তু তারপরেও রাগ কমেনি অভিযুক্তদের। কোদাল এবং অন্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপুর্যপুরি কোপানো হয় ওই ব্যক্তিকে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খুনের পর রক্তে ভেসে যায় ওই বাড়ির চত্বর। পরে সরাসরি থানায় গিয়ে পুলিসকে সব জানিয়ে আত্মসমর্পণ করে মৃতের স্ত্রী ও সৎ ছেলে।
ঠিক কী কারণে খুন করা তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র তদন্তের ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হয়ে উঠবে বলেও জানিয়েছেন 
জেলা পুলিসের এক পদস্থ আধিকারিক।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানতে পেরেছে, নির্দিষ্ট কোনও পেশা ছিল না মৃতের। কখনও মজুরি আবার কখনও অন্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। দয়া দাসের আগেও বিয়ে হয়েছিল। বিক্রম ওই গৃহবধূর প্রথম পক্ষের ছেলে। কয়েক বছর আগে যদুভূষণের সঙ্গে নতুন করে সংসার পেতেছিল সে। যদিও আইনি বিয়ে হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। গৃহবধূ তার নতুন সংসারে নিয়ে এসেছিলেন প্রথম পক্ষের ছেলেকেও।
স্থানীয় বাসিন্দা অনীতা মণ্ডল, প্রতিমা মণ্ডল, বলরাম রাজপুত সহ অন্যান্যরা বলেন, যেভাবে ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে তা নৃশংস বললেও কম বলা হয়। মৃতের মুখ বেঁধে ফেলেছিল অভিযুক্তরা। ফলে সাহায্যের জন্য তিনি চিৎকার করতেও পারেননি। 
স্থানীয় কাউন্সিলার সুজিত সাহা বলেন, কী কারণে এই খুন তা স্পষ্ট নয়। পুলিস নিশ্চয়ই খুনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করবে। তবে নেশা করা নিয়ে ওই পরিবারে অশান্তি ছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে জেনেছি। তবে কারণ যাই হোক এই খুন স্থানীয় বাসিন্দাদের মতো আমাকেও রীতিমতো আতঙ্কিত করে তুলেছে। এলাকায় মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন তরুণ যুবকদের একাংশ। মাদকের কারবার রুখতে পুলিসের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ