সংবাদদাতা, বেলদা: ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৭টা ৫০মিনিট। বেলদার কেশিয়াড়ি মোড় লেভেল ক্রসিংয়ে পড়ে রয়েছে রেলগেট। গেটের ওপারে বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। আর গেটের এপারে টোটোয় ছটফট করছেন হৃদরোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ। পরিবারের সদস্যরা তাঁর বুকে হাত দিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন বাঁচানোর। এদিকে রেললাইন ধরে ধীরে ধীরে বেলদা স্টেশনে ঢুকছে মালগাড়ি। সেখানেই আটকে কেটে গেল প্রায় ১২-১৫ মিনিট। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে গেলেন বেলদার নবোদয় পল্লির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত রেলের ডাককর্মী মণীন্দ্রনাথ ষড়ঙ্গী(৭৯)। এরপর বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, রাস্তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। রবিবারের মতো মর্মান্তিক চিত্র প্রায়শই দেখতে হচ্ছে বেলদার বাসিন্দাদের। এই ঘটনার পর ২৫নম্বর রেলগেটের উপর উড়ালপুল তৈরির দাবিতে ফের সরব হয়েছেন বাসিন্দারা।
বেলদা স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম কেশিয়াড়ি মোড়ের ২৪নম্বর লেভেল ক্রসিংটি। যার একপাশে বাজার ও অপরদিকে হাসপাতাল রয়েছে। বর্তমানে খড়্গপুর থেকে বালেশ্বর রেলের তৃতীয় লাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছে। আর এই থার্ড লাইন তৈরি হয়ে যাওয়ায় বেড়েছে ট্রেনের সংখ্যা। তার ফলে রেলগেট পড়ে থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অসুস্থ রোগী থেকে নিত্যযাত্রীদের। রবিবার সেই রেলগেটেই আটকে মৃত্যু হয় মণীন্দ্রবাবুর। তাঁর বড় ছেলে পেশায় শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় ষড়ঙ্গীর আক্ষেপ, অনেকদিন ধরে শুনে আসছি এখানে উড়ালপুল হবে। আজও তা হল না। গেটে আটকে না পড়লে হয়তো বিনা চিকিৎসায় বাবাকে এভাবে চোখের সামনে মরতে হতো না। জানি না কবে এর সমাধান হবে।
মণীন্দ্রবাবুর সহকর্মী অবসরপ্রাপ্ত ডাককর্মী দীপঙ্কর দে বলেন, উড়ালপুল থাকলে হয়তো ওঁকে বাঁচানো যেত। এই উড়ালপুল নিয়ে অনেক টালবাহানা হচ্ছে, আর নয়। এবার যাতে আর কাউকে এভাবে বেঘোরে প্রাণ হারাতে না হয় তার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন। দ্রুত তৈরি হোক উড়ালপুল।
নারায়ণগড়ের বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট বলেন, ঘটনাটি খুবই বেদনাদায়ক। পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। কীভাবে আগের সাংসদ বেলদার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই উড়ালপুল তৈরি করতে পারেননি তা এখানকার মানুষ হাড়েহাড়ে টের পেয়েছেন। রেলের কাছে এবিষয়ে বারবার সমস্যার চিত্র ধাপে ধাপে তুলে ধরেছিলাম। বিষয়টি রেল বুঝতে পেরে দ্রুত এই উড়ালপুল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছরেই এই উড়ালপুলের কাজ শুরু হয়ে যাবে।
রেলের এক আধিকারিক বলেন, রেল ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে উড়ালপুলের নকশা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। নিজস্ব চিত্র