Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানে পোষ্য নিয়ে বিবাদ, এক চড়েই মৃত্যু প্রৌঢ়ের

পোষ্য নিয়ে বিবাদের জেরে ভাড়াটিয়ার মারে প্রাণ গেল বাড়ির মালিকের। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান শহরের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পীরপুকুর এলাকায়।

বর্ধমানে পোষ্য নিয়ে বিবাদ, এক চড়েই মৃত্যু প্রৌঢ়ের
  • ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পোষ্য নিয়ে বিবাদের জেরে ভাড়াটিয়ার মারে প্রাণ গেল বাড়ির মালিকের। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান শহরের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পীরপুকুর এলাকায়। পুলিশ ৭০বছরের বৃদ্ধ ভাড়াটিয়া সোমনাথ রায়কে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির মালিক সন্দীপ দত্ত(৫৫) নীচের তলায় থাকতেন। উপর তলায় থাকত ভাড়াটিয়া। শনিবার রাতে ভাড়াটিয়া সোমনাথের সঙ্গে সন্দীপবাবুর বচসা হয়। সেই সময় ভাড়াটিয়া বাড়ির মালিককে ঘুসি মারে। তিনি সিঁড়ি থেকে নীচে পড়ে যান। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সন্দীপবাবু বিড়াল পছন্দ করতেন। প্রতি঩দিন তিনি কয়েকটি বিড়ালকে খেতে দিতেন। সেটা ভাড়াটিয়া পছন্দ করত না। সে বাড়িতে কুকুর রেখেছে। বিড়াল উপরতলায় গেলে অশান্তি শুরু হয়ে যেত। মৃতের ভাই সুরজিৎ দত্ত বলেন, দু’বছর আগে ওই ভাড়াটিয়া আসে। সে কিছুদিন থাকার পরই বিড়াল নিয়ে অশান্তি শুরু করে। প্রায়ই অশান্তি হত। শনিবার রাতে বিড়ালদের খাবার দেওয়া নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেই সময় অভিযুক্ত আচমকা দাদাকে আঘাত করে। ভাড়াটিয়ার বাড়িও ওই এলাকাতেই। নিজের বাড়িতে কে কী করবে, সেটা ঠিক করার অধিকার ভাড়াটিয়ার নেই। 
অভিযুক্ত অবশ্য পুলিশকে জানিয়েছে, বিড়াল নিয়ে আপত্তির কথা বহু আগে বাড়ির মালিককে জানানো হয়েছিল। তারপরেও তিনি বাড়িতে বিড়াল পুষতেন। তাতে নানা সমস্যা হত। বিড়াল উপরে উঠে গিয়ে তাণ্ডব চালাত। পাশাপাশি, পোষ্য বিদেশি কুকুর দু’টিও চিৎকার শুরু করত। তাদের বেঁধে রাখা দায় হয়ে পড়ত।
স্থানীয়রা বলেন, অভিযুক্তের বয়স ৭০ বছর। এই বয়সেও সে মারধর করায় অনেকেই অবাক হয়ে যান। ঘটনার পরই এলাকার লোকজন অভিযুক্তকে ঘিরে রাখে। বর্ধমান থানার পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাস বলেন, ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত শারীরিকভাবে অসুস্থ। জেরায় সে অপরাধের কথা মেনে নিয়েছে। সে জানিয়েছে, উত্তেজনার বশে বাড়ির মালিককে ধাক্কা দেয়। তিনি সিঁড়িতে পড়ে যাওয়ার পর মাথায় আঘাত পান। সেই কারণে মারা গিয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বাড়ি ভেঙে বহুতল নির্মাণ চলছে। তাই সে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। প্রথম কয়েকদিন বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিল। বিড়ালকে কেন্দ্র করেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। তা নিয়ে হামেশাই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বেধে যেত। কিন্তু, শেষ পরিণতি এমনটা হতে পারে বলে কেউই আন্দাজ করতে পারেনি। অভিযুক্ত বৃদ্ধও এদিন থানায় বসে ঘটনার জন্য আফশোস করতে থাকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ