Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীয়ার ধানতলায় এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী বৃদ্ধ!

ফের এসআইআর আতঙ্কে ফের আত্মঘাতী হওয়ার অভিযোগ। এবার ঘটনাস্থল রানাঘাটের ধানতলা থানা এলাকার পশ্চিম মাটিকুমড়া মধ্যপাড়া।

নদীয়ার ধানতলায় এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী বৃদ্ধ!
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ফের এসআইআর আতঙ্কে ফের আত্মঘাতী হওয়ার অভিযোগ। এবার ঘটনাস্থল রানাঘাটের ধানতলা থানা এলাকার পশ্চিম মাটিকুমড়া মধ্যপাড়া। মৃত ব্যক্তির নাম সুশান্ত বিশ্বাস (৬০)। রবিবার  তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হয় ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। 

Advertisement

মৃত ব্যক্তির পরিবারের সাফ অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসআইআর আতঙ্কে ভুগছিলেন ওই বৃদ্ধ। বেরনো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ঘর থেকে। পাড়া প্রতিবেশীরা বোঝালেও আতঙ্ক কাটছিল না তাঁর। ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ যেতে পারে এবং ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হতে পারে এই আশঙ্কায় ক্রমশ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। 
যদিও পরিবারের দাবি, সুশান্তবাবুরা দীর্ঘদিনের বাসিন্দা এখানকার। তাঁর মায়ের নাম ছিল ২০০২ এর তালিকা। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন তিনি এতটা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারা যায়নি। মৃতের স্ত্রী নমিতা বিশ্বাস বলেন, এসআইআর হওয়ার পর থেকেই মানুষটা যেন কী রকম হয়ে গেল। বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ। পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গেও মিশতে চাইত না। সব সময় বলত, এত কিছু ধারদেনা করে করলাম, এগুলোর কী হবে। দিব্যি সুস্থ মানুষটা হঠাৎ করে সকালে উঠে দেখি গলায় দড়ি দিয়ে দিয়েছে। ২০০০ সালে আমার শাশুড়ি মারা যান। ২০০২ সাল পর্যন্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল। তবুও সেই ভয়ে মানুষটাকে চলে যেতে হল আজকে।  এদিকে, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে পৌঁছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। রানাঘাট ২ বি তৃণমূল সভাপতি রূপঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সারা রাজ্যজুড়ে এসআইআর আতঙ্কে যে মৃত্যু মিছিল চলছে, এই ঘটনা তার ব্যতিক্রম নয়। বিজেপির রাজনৈতিক অভিসন্ধি মেটাতে প্রাণ দিতে হচ্ছে বাংলার মানুষকে।
পাল্টা আক্রমণ করেছে বিজেপি। নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, মৃত্যুর দায় তৃণমূলেরই। কারণ তারাই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কে পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। এটা কোথাও বলা হয়নি যে, ওই দেশ থেকে আসা হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধরা এই দেশে থাকতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় সরকার তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাই মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিপদে ঠেলে দেওয়ার দায় তৃণমূলকেই নিতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ