সংবাদদাতা, বহরমপুর: বিয়ের সম্বন্ধ ভেস্তে দিয়েছে সন্দেহ করে এক যুবককে শায়েস্তা করতে সোমবার সকালে লোহার রড, শাবল নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়েছিল কিছু দুষ্কৃতী। কিন্তু সন্দেহভাজন যুবককে না পেয়ে তাঁর বাবাকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। ওই প্রৌঢ়কে বাঁচাতে এসে দুষ্কৃতীদের মার খান তাঁর ভাইপো। জখম দুজনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুর্শিদাবাদ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁদেরে কলকাতায় রেফার করা হয়। কলকাতায় যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় প্রৌঢ়ের ভাইপো তারা মিঞার (৩৬)। প্রৌঢ় আমান মিঞা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড়ঞা থানার মহিষগ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে ন’ জনের নামে বড়ঞা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিস মঙ্গলবার চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম ফিরাই শেখ, মিঠুন শেখ, এলিম শেখ ও শাহজাহান শেখ। ধৃতদের বাড়ি বড়ঞা থানার বেলডাঙা গ্রামে। বড়ঞা থানার পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। বাকি অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নাসির শেখের ভাগ্নের বিয়ের ঠিক হয়েছিল মহিষগ্রামে। কিন্তু সেই বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যায়। আমান মিঞার ছেলে রাজেশ মিঞা এই বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে দিয়েছে বলে সন্দেহ করে ছেলের বাড়ির লোকজনের। রাজেশ মিঞাকে মারার জন্য পাশের গ্রাম বেলডাঙা থেকে সোমবার সকালে দলবল নিয়ে মহিষগ্রামে চড়াও হয় অভিযুক্তরা। রাজেশকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর বাবা আমান মিঞাকে রাস্তায় ফেলে লোহার রড, শাবল দিয়ে মারধর শুরু করে দুষ্কৃতীরা। কাকাকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন তারা মিঞা। পরিবারের দাবি, পরিযায়ী শ্রমিক তারা মিঞা মুম্বই থেকে ঈদে বাড়ি এসেছিলেন। তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। দুষ্কৃতীদের মারে মাথা ফাটে দুজনের। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগ। গ্রামের লোক জমতেই দুষ্কৃতীরা এলাকা ছাড়ে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখান থেকে সোমবার সন্ধ্যায় দুজনকে কলকাতায় রেফার করা হয়। কলকাতা নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তারা মিঞার। মৃতের ভাই চাঁদ মিঞা বলেন, রাজেশকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যেই ওরা রড, শাবল নিয়ে বাড়িতে চড়াও হয়েছিল। কাকাকে মারছে দেখে ভাই বাঁচাতে গিয়েছিল। ওরা দুজনকেই নৃশংসভাবে মারধর করে। অভিযুক্তদের উচিত শাস্তি চাই। -নিজস্ব চিত্র