Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এড়িয়াখলিতে বড়দিনে পিকনিক পার্টির ভিড় বাড়বে, এগিয়ে এলেন গ্রামবাসীরা

এড়িয়াখলিতে বড়দিনে পিকনিক পার্টির ভিড় বাড়বে, এগিয়ে এলেন গ্রামবাসীরা
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, হলদিয়া: বড়দিনে গ্রামে পিকনিকে আসবেন বহু মানুষ। পিকনিক পার্টিগুলি ওই গ্রামের অতিথি। তাই বড়দিনের আগে সোমবার কুঁকড়াহাটির এড়িয়াখালি গ্রামের বাসিন্দারা অতিথিদের জন্য তৈরি করলেন পাবলিক টয়লেট। সুতাহাটা ব্লক প্রশাসন বা স্থানীয় কুঁকড়াহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে একাধিকবার কমিউনিটি টয়লেটের জন্য আবেদন করেছেন স্থানীয়রা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অভিযোগ, এড়িয়াখালি শিবমন্দির সংলগ্ন পিকনিক স্পট উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানোর পরও কেউ উদ্যোগ নেয়নি। ন্যূনতম কমিউনিটি টয়লেট পর্যন্ত তৈরি হয়নি। শেষমেশ বড়দিনের আগে কালো পলিথিন এনে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই লেগে পড়লেন কাজে। বাঁশের খুঁটি পুঁতে, ইট পেতে তাঁরা তৈরি করেছেন কয়েকটি অস্থায়ী টয়লেট। সেখানে জলের ব্যবস্থাও রেখেছেন যাতে পিকনিক পার্টির মহিলা সদস্যরা সমস্যায় না পড়েন। 
Advertisement
শীত পড়তেই হুগলি নদীর তীরে এড়িয়াখালি শিবমন্দির এলাকায় পিকনিক পার্টির ভিড় জমতে শুরু করেছে। শতাব্দী প্রাচীন শিবমন্দির, জমিদারদের কাছারিবাড়ি, পুরনো বটগাছের প্রেক্ষাপটে শান্তস্নিগ্ধ এড়িয়াখালি গ্রাম। এড়িয়াখালির পাশেই জেলে পাড়া। নদীতীরে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মাছ ধরা নৌকোর দৃশ্য মন ভরিয়ে দেয় পর্যটকদের। কখনও আবার ভেসে যায় পালতোলা বালির নৌকো। গ্রামের গা ঘেঁসে চলে ভিন দেশি জাহাজের আনাগোনা। পিকনিকে আসা পর্যটকরা নিজেদের হারিয়ে ফেলেন এমন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সামনে। এড়িয়াখালিতে পিকনিকে এসে নৌকোর গলুইতে মৎস্যজীবীদের সঙ্গে সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে যায় বড়দিনে বা নিউ ইয়ার্স ডে-তে। এখানে সূর্যাস্তের দৃশ্য খুবই মনোরম। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এড়িয়াখালিতে সেচদপ্তর নদীবাঁধ কংক্রিটে বাঁধিয়ে দেওয়ার পর গত কয়েক বছর পিকনিক পার্টির ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কুঁকড়াহাটি জেটির খুব কাছেই পিকনিক স্পট হওয়ায় যোগাযোগের সুবিধে রয়েছে। ফলে শীতকালে কয়েক হাজার মানুষ পিকনিক করতে আসেন। 
স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় দাস বলেন, এড়িয়াখালিকে পিকনিক স্পট গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। দু’দশকের বেশি সময় ধরে এনিয়ে লড়াই করছেন মানুষ। কারণ হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও কলকাতা যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুবিধে রয়েছে। সেকারণেই বহু বছর আগে এখানে কলকাতার জমিদাররা কাছারিবাড়ি ও মন্দির তৈরি করেছিলেন। এখন এড়িয়াখালির পিকনিক স্পটে পৌঁছতে একটি পাকা ব্রিজ পেরতে হয়। ব্রিজ খুব সরু ও পুরনো হওয়ায় গাড়ি পারাপারে সমস্যা হয়। প্রশাসন কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকল্পে এই পিকনিক স্পট উন্নয়নের চেষ্টা করছে বাসিন্দারা। এরফলে গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। সুতাহাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অশোক মিশ্র বলেন, গ্রামের বাসিন্দারা পিকনিক পার্টির জন্য অস্থায়ী টয়লেট তৈরি করেছেন। ওদের সাধুবাদ জানাচ্ছি। তবে পঞ্চায়েত সমিতি কুঁকড়াহাটি ও এড়িয়াখালি ঘিরে ৪৫ লক্ষ টাকার ইকো ট্যুরিজমের উদ্যোগ নিয়েছে। এই স্কিমটি পাশ হয়ে গিয়েছে। জানুয়ারি মাস নাগাদ রাজ্য সরকার টাকা দেবে। কুঁকড়াহাটি জেটির পাশে পঞ্চায়েত পর্যটনের জন্য রিসর্ট তৈরি করবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ