Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর ইন্দোরে দূষিত জল খেয়ে মৃত আট, অসুস্থ বহু

ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর ইন্দোরে দূষিত জল খেয়ে মৃত্যুমিছিল! এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত আটজন। গুরুতর অসুস্থ বহু

দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর ইন্দোরে দূষিত জল খেয়ে মৃত আট, অসুস্থ বহু
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০১
Prefer us on Google

ইন্দোর: ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর ইন্দোরে দূষিত জল খেয়ে মৃত্যুমিছিল! এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত আটজন। গুরুতর অসুস্থ বহু। মূলত ইন্দোর শহরের ভগীরথপুরা এলাকায় এই দূষিত পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছিল। কয়েকদিন আগে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে জল খেয়ে বিষক্রিয়া শুরু হয়। হাসপাতালগুলিতে রোগীদের ভিড় বাড়তে থাকে। তাঁদের মধ্যেই আটজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গুরুতর অসুস্থ আরও অনেকে। বুধবারও বেশ কয়েকজন নতুন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই মহিলা ও শিশু। সরকারি হিসেব বলছে, গত এক সপ্তাহে ১ হাজারের বেশি মানুষের বমি-ডায়েরিয়ার সমস্যা হয়েছে। তার মধ্যে ১১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইন্দোরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রায়শই সমাজমাধ্যমে গর্ব করে পোস্ট করেন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা। সেই শহরেই দূষিত জল খেয়ে এতজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মোহন যাদব। পুরসভার দুই আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ারকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মোহন। একইসঙ্গে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। মৃতদের পরিজনের সঙ্গে দেখা করেন স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়। যদিও তাঁর দাবি, জলের জন্য সকলের মৃত্যু হয়নি। কেউ কেউ স্বাভাবিকভাবেই মারা গিয়েছেন। যা নিয়ে নতুন বিতর্ক ছড়িয়েছে।

Advertisement


ভগীরথপুরা এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ২৫ ডিসেম্বর ইন্দোর পুরসভার তরফে যে পানীয় জল সরবরাহ করা হয়েছিল, তাতেই সমস্যা ছিল। সেদিন জলের স্বাদ ও গন্ধ অন্যরকম ছিল। পুরসভার কমিশনার দিলীপকুমার যাদব জানিয়েছেন, ভগীরথপুরায় পানীয় জল সরবরাহের প্রধান পাইপলাইনে একটি ছিদ্র পাওয়া গিয়েছে। ওই ছিদ্রের উপরেই একটি শৌচাগার রয়েছে। সেখানকার জল সোক-পিটের বদলে একটি সিঙ্কহোলে ফেলা হচ্ছিল। সেখান থেকেই দূষিত জল ছিদ্রের মাধ্যমে পানীয় জলের সঙ্গে মিশেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে আর কোথাও পাইপলাইনে ছিদ্র রয়েছে কি না, তা দেখতে ম্যাপিং শুরু করেছে পুরসভার কর্মীরা। মেয়র পুষ্যমিত্র ভার্গব অবশ্য জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা সাত। ৩৫ জনকে ইতিমধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। জলে বিষক্রিয়ার জন্য মেয়র এবং পুর কমিশনার দায়ী বলে অভিযোগ তুলেছেন মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারি। দু’জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। জিতুর বক্তব্য, ‘এটা পুরসভার ব্যর্থতা। যদি নর্দমার জল পাইপলাইনে ঢুকে যায়, তাহলে বমি, ডায়েরিয়া হতে পারে। কিন্তু মৃত্যু হতে পারে না। মনে হচ্ছে, বিষ জাতীয় কিছু জলে মেশানো হয়েছিল। এই নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ