নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ইস্তফার নির্দেশকে থোড়াই কেয়ার করে পাঁচ দফা এজেন্ডাকে সামনে রেখে বোর্ড অব কাউন্সিলার্সের মিটিং ডাকলেন এগরার চেয়ারম্যান স্বপনকুমার নায়েক। আগামী ২০ নভেম্বর বেলা ১২টায় ওই মিটিং ডাকা হয়েছে। শুক্রবার প্রত্যেক কাউন্সিলারের কাছে এনিয়ে চিঠিও পৌঁছেছে। আলোচ্য সূচিতে সরকারি স্কিম ও উন্নয়নের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বের নজরে আনা হয়েছে। এই অবস্থায় ২০তারিখ ওই বোর্ড মিটিংয়ে তৃণমূলের কোন কোন কাউন্সিলার যান, সেটাই দেখার।
এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপনবাবু বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত চিঠিতে চেয়ারম্যান হয়েছি। আমাকে জেলা সভাপতি ইস্তফা দিতে বলেছেন। রাজ্য নেতৃত্ব কিংবা দলনেত্রী ইস্তফা দেওয়ার কথা জানাননি। আমি এগরা শহরের উন্নয়নের কাজে দায়বদ্ধ। পুজোর পর কোনও বোর্ড মিটিং ডাকা হয়নি। টয়লেট তৈরির জন্য টাকা এসেছে। সেজন্য ২০ নভেম্বর বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ নভেম্বর পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তমলুক এবং এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানকে ইস্তফার নির্দেশ দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। ইস্তফার নির্দেশ ঘিরে দলের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গত ১১ নভেম্বর তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায় এবং ভাইস চেয়ারপার্সন লীনা মাভৈ ইস্তফা দিয়েছেন। তবে, এগরা পুরসভার চেয়ারম্যানকে ইস্তফার জন্য জেলা সভাপতি চিঠি পাঠালেও তা কর্ণপাত করছেন না। এনিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে দল। এরমধ্যেই স্বপনবাবু ২০ নভেম্বর বোর্ড মিটিং ডেকেছেন। শুক্রবার ওই চিঠি ঘিরেই দলের মধ্যেই হইচই পড়ে গিয়েছে।এগরা পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন শম্পা চক্রবর্তীকে দল চেয়ারপার্সন করতে চায়। রাজ্য নেতৃত্ব থেকে সেরকমই নির্দেশ এসেছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। কিন্তু, চেয়ারম্যান ইস্তফা না দেওয়ায় আপাতত সেই সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে। এগরা পুরসভায় মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪টি। ২০২২সালে পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৭টি, বিজেপি ৫টি, নির্দল ১টি এবং কংগ্রেস ১টি আসনে জয়ী হয়। বোর্ড গঠনের সময় কংগ্রেস কাউন্সিলার নিরপেক্ষ ছিলেন। নির্দল কাউন্সিলারের সমর্থনে বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। এই মুহূর্তে চেয়ারম্যান বদল নিয়ে অনাস্থা ভোটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বপনবাবু স্বেচ্ছায় ইস্তফা না দিলে কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুবল মান্নার মতো অনাস্থা এনে সরানো হতে পারে বলে দলীয় সূত্রের খবর।