Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অর্থনৈতিকভাবে বাংলাকে ‘গলাটিপে’ মারার চেষ্টা চলছে: সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া

যারজেরে উত্তরবঙ্গের তিস্তা, জলঢাকা, মানসাই, রায়ডাক সহ বিভিন্ন নদী ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে

অর্থনৈতিকভাবে বাংলাকে ‘গলাটিপে’ মারার চেষ্টা চলছে: সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া
  • ৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: অর্থনৈতিকভাবে বাংলাকে গলাটিপে মারার চেষ্টা চলছে। উত্তরবঙ্গের বন্যা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বুধবার শিলিগুড়িতে প্রস্তুতি বৈঠকের পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এভাবে সরব হন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। একইসঙ্গে তিনি জানান, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক-দু’দিনের মধ্যেই এ ব্যাপারে রাজ্যের কাছে প্রস্তাব পেশ করা হবে। 

Advertisement

বর্ষার মরশুম শুরু হতেই সিকিম ও ভুটানে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। যারজেরে উত্তরবঙ্গের তিস্তা, জলঢাকা, মানসাই, রায়ডাক সহ বিভিন্ন নদী ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করতে উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন সেচমন্ত্রী। এদিন শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে তিনি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি ছাড়াও সেচদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সবিনা ইয়াসমিন, অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী বুলুচিক বড়াইক, রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বড়াইক, শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব সহ সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও জেলা প্রশাসনের কর্তারা ছিলেন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকে সিকিম, ভুটান এবং উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিস্থিতি, নদীগুলির অবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। 
বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলার বঞ্চনা নিয়ে সরব হন সেচমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, গ্রামীণ রাস্তা সহ নদী ড্রেজিং করানোর অর্থ থেকেও বঞ্চিত বাংলা। প্রতিবছর তিস্তা সহ বিভিন্ন নদীর নাব্যতা বাড়াতে খরচ করা হয় প্রায় ৫৮৭ কোটি টাকা। এতে নদীর প্রায় ৮৯০ কিমি এলাকা সংস্কার করা হয়। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে এজন্য এক কানাকড়িও দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থনৈতিকভাবে গলাটিপে বাংলাকে মারার চেষ্টা চলছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলায় কর্মসংস্থান, আবাস, রাস্তা, নদীবাঁধ নির্মাণ সহ বিভিন্ন প্রকল্প চলছে। 
সেচমন্ত্রী ইন্দো-ভুটান নদী কমিশনের দাবিতেও সরব হন। বলেন, ভুটানে পাঁচটি রেইন গেজ স্টেশন রয়েছে। ফ্লাশ ফ্লাডের বিষয়ে আগাম খবর পেতে প্রতিবেশী সেই রাষ্ট্রে আরও ৫৫টি গেজ স্টেশন গড়া দরকার। তাছাড়া ভুটানে অবাধ খনি খননকার্যের প্রভাব উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার নদীগুলিতে পড়ছে। নদীগুলির নাব্যতা কমে যাচ্ছে। গত ১৪ মে ভুটানের পারোতে ভারত-ভুটান জয়েন্ট এক্সপার্ট কমিটির বৈঠকে বিষয়টি তোলা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ইন্দো-নেপাল ও ইন্দো-বাংলা নদী কমিশনের মতো ভারত-ভুটান নদী কমিশন গঠনের দাবিও কেন্দ্রের কাছে বহুবার জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও এ ব্যাপারে চিঠি লিখেছেন। তাতেও কেন্দ্র কর্ণপাত করছে না। 
একইসঙ্গে এদিনের বৈঠকে বন্যা সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান সেচমন্ত্রী। বলেন, সেচদপ্তর, সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন, এনএইচপিসি, আইএমডি সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে ওই কমিটি গঠন করা হবে। এরবাইরে বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে দু’টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ