Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বার্নপুরে ইস্কোর ৪টি স্কুল বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার তৎপরতা তুঙ্গে, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তৃণমূলের

ফের বেসরকারিকরণের খাঁড়া শিল্পাঞ্চলে। এবার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে থাকা স্কুল বেসরকারি হাতে তুলে দিতে তৎপরতা দেখা গেল। বার্নপুর শহরে ইস্কো চারটি স্কুল চালায়।

বার্নপুরে ইস্কোর ৪টি স্কুল বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার তৎপরতা তুঙ্গে, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তৃণমূলের
  • ২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ফের বেসরকারিকরণের খাঁড়া শিল্পাঞ্চলে। এবার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে থাকা স্কুল বেসরকারি হাতে তুলে দিতে তৎপরতা দেখা গেল। বার্নপুর শহরে ইস্কো চারটি স্কুল চালায়। বার্নপুর বয়েজ হাইস্কুল, বার্নপুর বয়েজ প্রাইমারি স্কুল, বার্নপুর গার্লস হাইস্কুল ও বার্নপুর গার্লস প্রাইমারি স্কুল পরিচালনার জন্য বেসরকারি সংস্থার কাছে টেন্ডার আহ্বান করেছে ইস্কো। বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও স্কুল বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। জল মাপছে বিজেপি। 

Advertisement

ইস্কোর জনসংযোগ আধিকারিক ভাস্কর কুমার বলেন, চারটি স্কুল পরিচালনা করার জন্য আমরা টেন্ডার আহ্বান করেছি। বেসরকারি সংস্থা তাতে সাড়া দিলে নিয়ম মেনে তাদের হাতে স্কুল পরিচালনা করার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।
একসময় ডিএসপির অধীনে থাকা দুর্গাপুরের সরকারি স্কুলগুলি রমরমিয়ে চলত। ক্রমে আজ তা ভূতুড়ে বাড়ির রূপ নিয়েছে। পড়ুয়ার অভাবে একের পর এক স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অথচ বার্নপুরে কিন্তু এর উল্টো চিত্র ধরা পড়ে। ইস্কোর অধীনে থাকা বার্নপুর বয়েজ ও বার্নপুর গার্লস হাইস্কুলে প্রচুর পড়ুয়া রয়েছে। দু’টি স্কুলেরই প্রাথমিক বিভাগ রয়েছে। দুঃস্থ পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। এবার দুঃস্থদের শিক্ষায় আঘাত দেওয়ার অভিযোগ উঠল। ইস্কো সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে স্কুল পরিচালনা করার জন্য বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে টেন্ডার চেয়েছে। এতেই আতঙ্কে ভুগছেন এলাকার দুঃস্থ অভিভাবকরা। জানা গিয়েছে, বার্নপুর বয়েজ হাইস্কুলে সাতশোর বেশি পড়ুয়া রয়েছে। গার্লস হাইস্কুলেও প্রায় ৬০০জন পড়ুয়া রয়েছে। প্রাথমিক স্কুলগুলিতে যথেষ্টই পড়ুয়া রয়েছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলও ইসকোর অধীনে রয়েছে। এতদিন ইস্কোই স্কুলগুলি চালাত। প্রায় দু’হাজার পড়ুয়া থাকা এইসব স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। তাঁদের আশঙ্কা, বেসরকারি সংস্থা স্কুলগুলি হাতে নিলেই প্রথমে ফি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। যা তাঁদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হবে না। দুঃস্থ পরিবারের পড়ুয়ারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত পড়ুয়াদের কোনও ফি দিতে হয় না। ইস্কোর স্থায়ী কর্মীদের সন্তানদের স্কুল ফি মুকুব। পাশাপাশি অস্থায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের স্কুল ফি বছরে মাত্র ৩০টাকা। ইস্কোর শ্রমিক না হলে বছরে মাত্র ৭২০টাকা দিতে হয়। এই ফি এক ধাক্কায় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। 
৩৫হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে ইস্কোর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণে বিপুল সংখ্যক ঠিকা শ্রমিক প্রয়োজন। স্বাভাবিকভাবে তাঁদের সন্তানরা এই এলাকায় আসবে। তা সত্ত্বেও বেসরকারি হাতে স্কুলগুলি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন অনেকে। তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার তথা শিক্ষক নেতা অশোক রুদ্র বলেন, ইস্কোয় বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে। মানুষকে পরিষেবা দেওয়া থেকে ক্রমশ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। চারটি স্কুল বেসরকারি সংস্থার  হাতে তুলে দেওয়া হলে গরিব ছেলেমেয়েরা কীভাবে পড়াশোনা করবে? সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে তীব্র আন্দোলন হবে। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস এনিয়ে আন্দোলন করার আগে ভেবে দেখুক সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো তারা কী পর্যায়ে নামিয়েছে। ইস্কোর টেন্ডারের বিষয়টি জানা নেই। তারা যদি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে নিশ্চয়ই ভালো কিছু করার জন্যই করবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ