সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: এক মঞ্চে দুই কিং! একজন বলিউডের বাদশা, অন্যজন বাইশ গজে ব্যাট হতে পরাক্রমী শাসক। শনিবার সন্ধ্যায় এমনই বিরল ফ্রেমের সাক্ষী থাকল নন্দনকানন।
সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: এক মঞ্চে দুই কিং! একজন বলিউডের বাদশা, অন্যজন বাইশ গজে ব্যাট হতে পরাক্রমী শাসক। শনিবার সন্ধ্যায় এমনই বিরল ফ্রেমের সাক্ষী থাকল নন্দনকানন।
শাহরুখই মঞ্চে ডেকে নিয়েছিলেন কোহলিকে। তাঁকে চিহ্নিত করলেন ‘জেনারেশন গোল্ড’ হিসেবে। বললেন, ‘বিরাটই একমাত্র ক্রিকেটার যে কিনা ২০০৮ সাল থেকে একই দলের হয়ে আইপিএলে খেলে আসছে।’ মঞ্চে নবীন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ডাকলেন রিঙ্কু সিংকেও। তিনি অবশ্যই ‘জেনারেশন বোল্ড’। আর দু’জনের মধ্যমণি হয়ে দাঁড়ানো শাহরুখ তবে কী? এবার স্বভাবসিদ্ধ মজার সুর বাজিগরের গলায়, ‘আমি এমন একজন যে কিনা কখনই ওল্ড হই না।’ সত্যিই তো, কে বলবে আগামী নভেম্বরে ৬০-এ পড়বেন কলকাতা নাইট রাইডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক!
বিরাটের কাছে তরুণ তুর্কিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন শাহরুখ। জবাবে আরসিবি’র ১৮ নম্বর জার্সির মালিক বললেন, ‘প্রথমেই সবাইকে শুভ সন্ধ্যা। থ্যাঙ্ক ইউ শাহরুখ ভাই, এমন সুন্দরভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। হ্যাঁ, বোল্ড জেনারেশন দারুণভাবে উঠে আসছে। তবে আমরা, গোল্ড জেনারেশন এখনও রয়েছি। নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে আমরা তৈরি। আশা করব, উপস্থিত ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে রাখার মতো স্মৃতি উপহার দিতে পারব।’ অর্থাৎ, নবীন প্রজন্মের জন্য থাকল চ্যালেঞ্জ। শাহরুখ ব্যাখ্যা করে দিলেন, ‘বিরাট যেটা বলল, গোল্ড জেনারেশন যথারীতি খুব ভালোই খেলবে।’
কথা রাখলেনও বিরাট। স্পেন্সার জনসনকে মারা দুটো ছক্কা, বরুণ চক্রবর্তীকে ডিপ মিড উইকেটে মারা স্লগ সুইপ ভোলার নয়। রিঙ্কু যদিও চ্যালেঞ্জ নিতে পারলেন না। মুখে যদিও বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা তৈরি টক্কর দেওয়ার জন্য।’ কিন্তু, কীসের টক্কর? দেদার পটকা, লেজারের বাহারী রংয়ের খেলায় স্বপ্নপুরী দেখানো নন্দনকাননকে মনে হল বিরাটেরই ঘরের মাঠ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাঝপর্বে মাঠে ‘এন্ট্রি’ তাঁর। করণ আহুজার পাঞ্জাবি গানে তখন ভাংড়া নাচছে গ্যালারি। কিন্তু হঠাত্ই সবার নজর ইডেনের লনে। ক্যাপ্টেন রজত পাতিদারকে সঙ্গে নিয়ে ওয়ার্ম-আপ করতে দেখা গেল কোহলিকে। সঙ্গে সঙ্গে ‘বিরাট, বিরাট’ শব্দব্রহ্মে ঢাকা পড়ল করণের গান। ইশারায় অনুরাগীদের অভিবাদন গ্রহণ করলেন তিনি। শাহরুখের সঙ্গে নাচের পর তাঁর হাতে ‘১৮’ লেখা স্মারক তুলে দেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট রজার বিন্নি। ফের হাততালির বন্যা। বিরাটের প্রতিটা শট মুগ্ধ করল ক্রিকেটপ্রেমীদের। বৃষ্টিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উড়ল ক্রিকেটের পতাকা। নাইটদের হারের বেদনা ভুলিয়ে দিল বিরাটের ধুমধাড়াক্কা। শাহরুখের মঞ্চে যথার্থ অর্থেই নায়ক কিং কোহলি। এক অনুরাগী তো মাঠে ঢুকে পা জড়িয়ে ধরলেন। চরণ ধরিতে দিও গো আমারে— আকুল আর্তিই ধরা পড়ল।
ম্যাচ শুরুর আগে অবশ্য ইডেনে প্রাণ সঞ্চারিত করেছিলেন শাহরুখ। তাঁকে মাইক হাতে মাঠে দেখে উঠেছিল ‘কিং খান, কিং খান’ শব্দব্রহ্ম। কল্লোলিনী তিলোত্তমাকে সম্বোধন করে শাহরুখ মঞ্চে ডেকে নিলেন বাংলারই ধন্যি মেয়ে শ্রেয়া ঘোষালকে। শ্রেয়া স্টেজ থেকে নামতেই এন্ট্রি দিশা পাটানির। দর্শকদের হাতের জ্বলন্ত এলইডি ব্যান্ড তখন মায়াবি করে তুলেছে গ্যালারিকে। জ্বলছিল মোবাইলের টর্চও। দুই নেতা, রাহানে ও পাতিদার ট্রফি নিয়ে উঠলেন মঞ্চে। কাটা হল বিশাল কেক। গাওয়া হল জাতীয় সঙ্গীতও। প্রকৃতিকে হারিয়ে জিতল ক্রিকেট ও বিনোদনের ধামাকাদার আইপিএল!