জহর দাস: মরশুমের প্রথম বড়ো ম্যাচ। অনেক আশা নিয়েই টিভি সেট অন করেছিলাম। আসলে ডার্বি মানেই বাঙালির আবেগ। টগবগে লড়াই। নতুন তারার জন্ম। হাসি, কান্নার দোলাচল। তবে স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, শনিবারের মহারণ একেবারেই মন ভরাতে পারেনি। দুই প্রধান এখনও তৈরি নয়। মাত্র কয়েকদিন অনুশীলনে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ খেলা সত্যিই সমস্যার। তবু মহারণ ঘিরে প্রত্যাশা থাকেই। সেখানে প্রাপ্তির তালিকায় তেমন কিছু জমা পড়েনি।
বিশ্বকাপের রেশ এখনও কাটেনি। তার এক সপ্তাহের মধ্যে ডুরান্ড কাপের ডার্বি। একেবারে ভিন্ন মেরুর ফুটবল। বেসিক ব্যাপারেও অনেক পিছিয়ে আমরা। ফুটবল ব্যাকরণ অনুযায়ী বলের কাছাকাছি থাকাই নিয়ম। তাতে ছাঁচ জমাট হয়। এখানে ঠিক উলটো। বলের চেয়ে ফুটবলারের দূরত্ব অনেক বেশি। ফলে শেপ একেবারেই দানা বাঁধে না। যুবভারতীর বড়ো মাঠেও তারই প্রতিফলন। বলকে বেশি রোল করানো দরকার ছিল। সেই চেষ্টা হল কোথায়? প্রথমার্ধে স্কোয়ার ও ব্যাক পাসের আধিক্য বেশ বিরক্তিকর। তুলনায় গতি বাড়ল দ্বিতীয়ার্ধে। দুই প্রধানেই নামী তারকার ভিড়। তাদের মাঝেই নজর ছিল জুনিয়রদের দিকেও। কিন্তু ডেভিড, সুহেলরা বড্ড নিষ্প্রভ। নিজেদের প্রমাণ করার এমন সুযোগ গোটা মরশুমে মিলবে কিনা সন্দেহ! ৪৫-৫০ হাজার দর্শকের সামনে ডার্বি খেলাই অন্যরকম এক মোটিভেশন। তরুণ ফুটবলাররা সেই সুযোগ হাতছাড়া করল। ডেভিডের কথাই ধরা যাক। মহমেডান স্পোর্টিং থেকে ওকে সই করিয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকারের মতো গোলের গন্ধ পায়। কিন্তু রাহুল ভেকের ছায়ায় বিশ্রাম নিল ডেভিড। জার্সির রং ছাড়া তরুণ স্ট্রাইকারটি একেবারেই অচেনা। বডি ল্যাঙ্গুয়েজও সাদামাটা। হতাশায় কাঁধ ঝুলে যাচ্ছে। অর্থাৎ আত্মবিশ্বাসের অভাব প্রবল। ঘরোয়া লিগের ম্যাচ খেলে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করা উচিত ডেভিডের। তুলনায় জেসিন ও বিষ্ণু অনেক ছটফটে। কেরালাইট বিষ্ণুর গতি আছে। এবার ওর পরিণত হওয়ার সময়। ছোটো স্পেলের বদলে ৯০ মিনিট খেলার মতো তৈরি করুক নিজেকে। ব্যক্তিগত মত, বিষ্ণুকে আরও আগে নামালে লাভবান হত হাবাস ব্রিগেড। পাশাপাশি আনোয়ারের পাশে সন্দীপ মান্ডিও বেশ সাবলীল। মনে হয়নি, প্রথম ডার্বি খেলছে। হাবাসের নিশ্চয়ই তা নজর এড়ায়নি।
মোহন বাগানে গোল করল সাহাল। কিন্তু বল বাড়ানোর কারিগর কিয়ান। বাকি সময়টা অবশ্য প্রতিভার প্রতি সুবিচারে ব্যর্থ। ডার্বিতে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব রয়েছে জামশেদ নাসিরির পুত্রের। তারপর প্রত্যাশার ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেনি। সুহেল ভাটেরও এমন পরিণতি হবে না তো? আশঙ্কা থেকেই গেল।
(লেখক: প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচ)