Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

জার্মানিকে চেনা পথে ফেরানোই চ্যালেঞ্জ কোচ জুরগেন ক্লপের

জার্মান ফুটবলে কোচ জুরগেন ক্লপ নতুন পরিবর্তনের পথে। জাতীয় দলের পুনরুদ্ধারে তাঁর পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

জার্মানিকে চেনা পথে ফেরানোই চ্যালেঞ্জ কোচ জুরগেন ক্লপের
  • ২৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মিউনিখ: ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে জাল কাঁপিয়ে রাতারাতি জার্মান ফুটবলে নায়ক হয়ে উঠেছিলেন মারিও গোৎজে। তাঁর একমাত্র গোলে আর্জেন্তিনাকে হারিয়ে চতুর্থবারের জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট অর্জন করে বেকেনবাওয়ারের দেশ। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা এই স্ট্রাইকার অবশ্য সীমাবদ্ধ থাকেন ওয়ান ম্যাচ ওয়ান্ডারেই। জার্মান ফুটবলের বির্বণ ধারায় বিলীন তিনিও। সেই যাত্রায় শামিল আরও একাধিক তারকা। টমাস মুলার, ফিলিপ লাম, বাস্তিয়ান সোয়াইনস্টাইগার, টনি ক্রুজ, মিরোস্লাভ ক্লোজে, ম্যাসুট ওজিলদের প্রস্থানে এক বিরাট শূণ্যতা তৈরি হয় জার্মান ফুটবলে। দীর্ঘ এক যুগ বাদেও তা পূরণ করতে ব্যর্থ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফল টানা তিনটি বিশ্বকাপে একের পর এক হতাশাজনক পারফরম্যান্স।

Advertisement

২০১৮ ও ২০২২ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর সদ্য সমাপ্ত আসরে রাউন্ড ৩২’এ থামে জার্মানির অভিযান। অথচ একটা সময় বিশ্বকাপে তাদের নাম শুনলেই রাতের ঘুম উড়ে যেত বিপক্ষ কোচ থেকে ফুটবলারদের। তবে গত দেড় দশকে নিজেদের ফুটবল দর্শন থেকে সরে বিদেশি স্টাইল রপ্ত করতে গিয়ে পথ হারায় জার্মান ফুটবল। দেরিতে হলেও বোধোদয় ঘটেছে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফবি) কর্তাদের। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরই পদত্যাগ করেন নাগেলসম্যান। তাঁর জায়গায় ঘরের ছেলে জুরগেন ক্লপকে এনে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ডিএফবি। তবে সেটা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকছে। আসলে এই জার্মান ফুটবল যে নিজেদের রুটটাই হারিয়ে ফেলেছে।
একটা সময় জার্মান জাতীয় দলের আঁতুড়ঘর ছিল বায়ার্ন মিউনিখের অ্যাকাডেমি। এফসি বায়ার্ন ক্যাম্পাস থেকেই উঠে এসেছেন টমাস মুলার, ফিলিপ লাম, ম্যাটস হামেলস, টনি ক্রুজের মতো ফুটবলার। শুধু তাই নয়, বালাক, ক্লোজে, পোডোলস্কিরাও জার্মান ফুটবলের প্রোডাক্ট। আর তাঁদের তুলে আনার পিছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন জাপ হেইঙ্কেস। বর্ষীয়ান এই কোচ কেরিয়ারের সিংহভাগ সময় জার্মান ক্লাবে কোচিং করিয়েছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মোট চারবার তাঁকে দেখা গিয়েছে বায়ার্ন কোচের পদে। তাঁর হাত ধরেই বুন্দেশলিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স সহ সব টুর্নামেন্টেই দাপট দেখিয়েছে বায়ার্ন। এমনকি, জার্মানির শেষ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সাত ফুটবলারই ছিল তাদের। তবে পরবর্তী সময়ে পেপ গুয়ার্দিওলা, কার্লো আনসেলোত্তিদের এনে নিজেদের ঘরানা ছেড়ে বেরানোর চেষ্টা করে জার্মান ক্লাবটি। এই পর্বে ক্লাব ফুটবলে সাফল্য জাতীয় দলে কোনোভাবেই ছাপ ফেলতে পারেনি।
এমন এক কঠিন সময়ে জুরগেন ক্লপকে এনে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লিভারপুলে সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেও স্বদেশীয় ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডই তাঁকে প্রচারের আলোয় এনেছে। ফলে জার্মান ফুটবলকে আবারও ট্র্যাকে ফেরাতে তাঁর প্রথম লক্ষ্য থাকবে ঘরোয়া লিগ থেকে বেশি করে ফুটবলার তুলে আনা। কারণ বর্তমান দলে প্লেয়ারদের মধ্যে স্পার্ক বা মানসিক দৃঢ়তার খামতি স্পষ্ট। তাই নতুন প্রজন্মের উপর ভরসা রেখে জার্মান ফুটবলকে টেনে তুলতে চাইবেন ক্লপ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ