Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিত্যক্ত খাদানের কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, দিশা দেখাচ্ছে ইসিএল

পরিত্যক্ত খাদান থেকে কয়লা চুরি চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে। কয়লা তুলে নেওয়ার পর ওইসব খাদানে আগুন ধরিয়ে দেবে ‌ইসিএলই। কয়লা গ্যাসিফিকেশন হয়ে তৈরি হবে সিন্থেসিস গ্যাস।

পরিত্যক্ত খাদানের কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, দিশা দেখাচ্ছে ইসিএল
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পরিত্যক্ত খাদান থেকে কয়লা চুরি চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে। কয়লা তুলে নেওয়ার পর ওইসব খাদানে আগুন ধরিয়ে দেবে ‌ইসিএলই। কয়লা গ্যাসিফিকেশন হয়ে তৈরি হবে সিন্থেসিস গ্যাস। যা আদতে কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সংমিশ্রণ। এর থেকে জ্বালানি, এমনকী বিদ্যুৎ তৈরিও সম্ভব। আর এই অত্যাধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে খাদানে কয়লা চুরি রোধে দেশকে দিশা দেখতে চলেছে ইসিএল। কোল গ্যাসিফিকেশনের পাইলট প্রজেক্ট চলছে ঝাড়খণ্ডের কস্তা কোল ব্লকে। ইসিএলও এই কাজে প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছে। তাকে ঘিরে আশার আলো দেখছে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি। বাকিদের টেক্কা দিয়ে এই প্রকল্পে ইসিএলের অংশীদার হতে আগ্রহ দেখিয়েছে ডব্লবিএসইডিসিএল। কোল গ্যাসিফিকেশনের ফলে উৎপন্ন সিন্থেসিস গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রাজ্যের সংস্থা সফল হলে তা দেশের মধ্যে নজির সৃষ্টি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

Advertisement

ইসিএলের সিএমডি সতীশ ঝাঁ বলেন, ‘আমরাই দেশের একমাত্র সংস্থা যাঁরা গ্যাসিফিকেশনের পাইলট প্রজেক্ট শুরু করতে চলেছি। প্রথম পর্যায়ে অভূতপূর্ব সাফল্য মিলেছে। পাইলট প্রজেক্টের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন  ও সরবরাহ নিয়ে ইতিমধ্যেই ডব্লবিএসইডিসিএল আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’ 
বিশ্বজুড়ে দ্রুত কমছে কয়লার ভাণ্ডার। বিকল্প শক্তির উৎস খুজতে সচেষ্ট সব উন্নত দেশ। এনিয়ে একাধিক গবেষণা চলছে ভারতেও। ইসিএলের মতো কয়লা উত্তোলনকারী সংস্থাই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদক হিসাবে সোলার এনার্জি তৈরির উপর জোর দিয়েছে। সেক্ষেত্রে তাদের উল্লেখযোগ্য ফল মিলতে চলেছে কোল গ্যাসিফিকেশন প্রজেক্টে। গত বছর দেশের প্রথম পাইলট প্রজেক্ট পায় ইস্টার্ন কোল ফিল্ড লিমিটেড। ঝাড়খণ্ডের নলা জেলার কস্তা কোলব্লকের পরিত্যক্ত খাদানে পরীক্ষামূলক ভাবে সেই কাজ শুরু হয়। 
জানা গিয়েছে, পরিত্যক্ত খাদানে প্রচুর পরিমাণ কয়লা অব্যবহৃত হিসাবে পড়ে থাকে। মূলত ভূগর্ভস্থ কয়লা খনির নিয়ম অনুযায়ী বেশ কিছু কয়লার পিলার না কেটে ছেড়ে আসতে হয়। এছাড়াও মাটির সংস্পর্শে থাকা বিপুল কয়লা কোনও ভাবেই তোলা সম্ভব হয় না। সেই পরিত্যক্ত খাদানে বিশেষ পদ্ধতিতে উপর থেকে ড্রিল করতে হয়। তারপর সেই ছিদ্র দিয়ে আগুন ও অন্যান্য রাসায়নিক পাঠানো হয়। যার জেরে সেখানে আগুন লেগে যায়। নানা বিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিত্যক্ত খাদানে ভেতরে সিন্থেসিস গ্যাস তৈরি হয়। ওই এলাকায় ফের ভূপৃষ্ঠের উপর অন্য একটি জায়গায় ড্রিল করে সেই গ্যাস বের করা হয়। এই গ্যাস থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিবেশ বান্ধব বলে দাবি করা হয়েছে।  
আর এই পদ্ধতির সফল ভাবে সর্বত্র করা গেলে এক ঢিলে একাধিক পাখি মারতে পারবে ইসিএল। প্রথমত, পরিত্যক্ত খাদানই হয়ে ওঠে ইসিএলের বিড়ম্বনার কারণ। সেই খাদানে পড়ে থাকা কয়লা লুট কর঩তেই খাদানে ঢোকে কয়লা চোররা। দুর্ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এছাড়া পরিত্যক্ত খাদানে  প্রকৃতিক কারণেই আগুন লেগে যায়। যা থেকে কোন কিছু‌ উৎপন্ন হয় না। বরং এলাকাবাসীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এই পদ্ধতি সুষ্ঠুভাবে চালু করা গেলে পরিত্যক্ত খাদান থেকে নতুন করে বিপুল লাভের মুখ দেখবে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ