নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিপুল আর্থিক সংকটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইসিএল। তাদের কয়লা বিক্রি হচ্ছে না। তার জেরে ইসিএল শ্রমিকদের সময়মতো বেতন দিতে পারছে না। ইসিএলের জন্মলগ্ন থেকে কোনও দিন এরকম অবস্থা হয়নি। প্রতিমাসের এক-দুই তারিখে শ্রমিকদের বেতন হত। কিন্তু, গত দু’মাসে সময়মতো বেতন হয়নি। ডিসেম্বরেও সময়মতো বেতন মিলবে না, জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের বেতন অনিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি খরচ কমাতে ইসিএল অফিস বন্ধের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। কয়লার চাহিদা না বাড়লে আরও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে ৪২ হাজার শ্রমিক ও আধিকারিকদের পরিবার। খনি অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী সিদ্ধান্তের জেরেই এই ঘটনা। বিজেপির হাতে থাকা কয়লা মন্ত্রক নির্বিচারে কয়লা ব্লকের বেসরকারিকরণ করেছে। কোল ইন্ডিয়ার অধীন কোলিয়ারিগুলিও বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা শ্রমিকদের কম বেতন দিয়ে সস্তায় কয়লা উত্তোলন করে বিক্রি করছে। বেশি দাম দিয়ে ইসিএলের কয়লা কেউ নিতে চাইছে না। পাশাপাশি, বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাকেও কয়লার ব্লকের বরাত দেওয়া হয়েছে।
ইসিএলের ডিরেক্টর(টেকনিক্যাল) নীলাদ্রি রায় বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১ লক্ষ ৮০ টন থেকে ২ লক্ষ টন কয়লা বিক্রি হত। বর্তমানে ১ লক্ষ ২০ হাজার টন কয়লা বিক্রি হচ্ছে। আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। তাদের কয়লার চাহিদা কমে গিয়েছে। আমাদের আরও তৎপরতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। যাতে কয়লা উত্তোলনের খরচ কমানো যায়।
রাজমহল থেকে ইসিএলের সবচেয়ে বেশি কয়লা উত্তোলন হয়। সেই কয়লা মূলত এনটিপিসির ফরাক্কা ও তেহেলগাঁও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে যেত। জানা গিয়েছে, দু’টি বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রই উৎপাদন ব্যাপক কমিয়ে দিয়েছে। সূত্রের খবর, বিপুল বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় চাহিদা কমে গিয়েছে। হঠাৎ বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ার পিছনেরও বেসরকারিকরণের ছায়া দেখছেন সিটু, আইএনটিইউসি নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপিঘনিষ্ঠ বণিক মহল বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তারা বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়ার গ্রিডে সরবরাহ করছে। ফলে সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলিতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, সামগ্রিক সংকট তৈরি হয়েছে। ইসিএলের সদর দপ্তরের এক কর্মী বলেন, আমার আর তিন বছর চাকরি আছে। তার আগেই মনে হচ্ছে সংস্থা আমাদের বিদায় করে দেবে। খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কর্মীদের হাউসরেন্ট, ওভারটাইম, সান ডে’র ডাবল ডিউটি বন্ধ করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
আইএনটিইউসি নেতা চণ্ডী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইসিএল আগেও আর্থিক সংকটে পড়েছে। কিন্তু, শ্রমিকদের বেতন নিয়ে টালবাহানা করেনি। বিজেপি সরকার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। বেসরকারি সংস্থা শ্রমিক নিপীড়ন করে সস্তায় কয়লা তুলে বিক্রি করছে। সরকারি কয়লা বেশি দাম দিয়ে কেউ নিতে চাইছে না।
সিটু নেতা সুজিত ভট্টাচার্য বলেন, দেশের কয়লাক্ষেত্র, বিদ্যুৎক্ষেত্রগুলিকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার জেরেই এক অসম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের বেতন পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।