সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া ও কালনা দুই মহকুমাতেই পর্যটনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব অপরিসীম। অমৃত ভারত প্রকল্পে দুই কাটোয়া-কালনা জুড়ে কাজ হচ্ছে। ঝাঁ চকচকে হচ্ছে দুই স্টেশন। কয়েক মাসের মধ্যেই অমৃত ভারতের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। বৃহস্পতিবার দুই স্টেশন পরিদর্শন করে জানালেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর। বস্তি উচ্ছেদ প্রসঙ্গে পুর্নবাসনের দায় এড়িয়ে তিনি সরাসরি রাজ্য সরকারের ঘাড়েই চাপালেন।
মিলিন্দ দেওস্কর বলেন, রেলের কাজ হলে রেলের জায়গা থেকে সরতে হবেই। তাদের পুর্নবাসন দেওয়ার পরিকল্পনা রেলের নেই। এটা রাজ্য সরকারের ইস্যু।
জেনারেল ম্যানেজারের এমন বক্তব্য হতাশ হয়েছেন সদ্য উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীরা। তাঁদের একটাই প্রশ্ন, বছরের পর বছর ধরে রেলের জায়গাতে আমরা বাস করছি। আচমকা উচ্ছেদ করা হয়েছে আমাদের। পুনর্বাসন না দিলে আমরাই বা যাবো কোথায়? রেলের তো অনেকে জায়গা পড়ে রয়েছে। সেখানেই বস্তিবাসীদের জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিক রেল। এ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূ। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রেলের জায়গা থেকে গরিব বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের পুর্নবাসনের দায়ও রেলের। এটা যখন একজন জেনারেল ম্যানেজার বলছেন রাজ্যের ইস্যু, তার মানে তিনি কাণ্ডজ্ঞানহীন ভাবেই বলছেন।
প্রসঙ্গত, কয়েক মাস ধরে কাটোয়া, কালনা মহকুমায় দফায় দফায় রেলের জায়গায় জবরদখল করে বসবাস করা বহু দুঃস্থ মানুষদের উচ্ছেদ করা হয়। সব জেসিবি দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কেউ ৩০ বছর ধরে রেলের জায়গায় বসবাস করছিলেন। আবার কেউ পঞ্চাশ বছর ধরে বাস করছিলেন। তাঁদের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এদিন জেনারেল ম্যানেজারের বক্তব্য শুনে তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাঁদেরও প্রশ্ন, রেলের জায়গায় বসবাস করছিলাম আমরা। হকারি করে সংসার চালাতাম। এখন আমাদের পুনর্বাসন দেওয়া রাজ্য সরকারের ইস্যু হয়ে গেল? তাহলে রেলের কি কোনও দায় নেই?
এদিন সকাল নটা নাগাদ জেনারেল ম্যানেজার কালনা স্টেশনে নামেন বিশেষ ট্রেনে। সেখানে তিনি অমৃত ভারত প্রকল্পের কাজ ঘুরে দেখেন। তারপর তিনি আবার কাটোয়া স্টেশনে আসেন সাড়ে দশটা নাগাদ। অমৃত ভারত প্রকল্পে রেলস্টেশনগুলিতে বাতানুকুল সুবিধাযুক্ত যাত্রী প্রতীক্ষালয় গড়ে উন্নত পরিষেবা দেওয়ার কাজ হচ্ছে। স্টেশনে স্টাইলস বসানো উঁচু প্ল্যাটফর্ম নির্মিত হচ্ছে। এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় স্টেশনমুখী রাস্তাগুলিকে চওড়া করা হচ্ছে। যাত্রীরা যাতে সহজেই স্টেশনে আসতে পারেন এবং স্টেশন থেকে বের হতে পারেন তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন জায়গায় দিক নির্দেশনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট রাস্তাগুলিতে পথচারীদের বিশেষ ব্যবস্থার পাশাপাশি ইকো সিস্টেম আলোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। অমৃত ভারত প্রকল্প অনুযায়ী কাটোয়া স্টেশন চত্বরে আগেই গাড়ি রাখার জন্য পার্কিং প্লেস রয়েছে। এছাড়াও চলমান সিঁড়িও করা হয়েছে যাত্রীদের সুবিধার জন্য। বৃষ্টির জলকে সংগ্রহ করে কাজে লাগানো হবে। সবুজায়ন করা হবে স্টেশন চত্বরে। স্টেশনের মূল প্রবেশ পথ বদলে ফেলা হয়েছে। তাও আবার অর্ধেক কাজ হয়ে পড়ে রয়েছে। এদিন সব কাজ মিলিন্দ দেওস্কর ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, আর কয়েক মাসের মধ্যেই কাটোয়া ও কালনা স্টেশনে অমৃত ভারত প্রকল্পে মডেল স্টেশনে পরিণত হয়ে যাবে৷ এছাড়া এদিন কাটোয়া স্টেশনেই জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করেন কাটোয়া আজিমগঞ্জ সেকশন সংগঠনের প্রতিনিধিরা৷ সংগঠনের সম্পাদক সত্যজিৎ ঘোষ বলেন, কাটোয়া -আমোদপুর শাখায় ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আমরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছি। উনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি রেল বোর্ডে দেখা হবে। কাটোয়া স্টেশন পরিদর্শনে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর।-নিজস্ব চিত্র