শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: নোটিশ পেলেও প্রযুক্তির শিকার পূর্ব মেদিনীপুরের অন্তত ২০হাজার ভোটারকে এসআইআর শুনানিতে যেতে হবে না। বিএলওদের সেই মর্মে নির্দেশ পাঠিয়েছে জেলা নির্বাচনী দপ্তর। ২০০২সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। তা সত্ত্বেও প্রযুক্তির বিভ্রাটে অনেক ভোটারের নাম বিএলও অ্যাপে ছিল না। ফর্ম ডিজিটাইজেশনের সময় তাঁদের ক্ষেত্রে ‘নট ফাউন্ড’ দেখাচ্ছিল। সেইসব ভোটারদেরও নোটিশ পাঠিয়ে এসআইআর শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তালিকায় এরকম অনেক বয়স্ক ভোটারও ছিলেন। শুনানি শুরু হতেই এনিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। হার্ড কপিতে ২০০২সালের ভোটার লিস্টে নাম থাকলেও বিএলও অ্যাপে নাম না থাকা ভোটারদের শুনানিতে হাজির হওয়ার দরকার নেই। কমিশনের নির্দেশিকা আসতেই জেলা নির্বাচনী দপ্তর এনিয়ে বিএলওদের নির্দেশ পাঠিয়েছে। তাই এক ধাক্কায় প্রায় ২০হাজার ভোটারের শুনানিতে যাওয়ার প্রয়োজন থাকছে না। প্রযুক্তির শিকার ওইসব ভোটাররা নিশ্চিন্তেই থাকতে পারবেন।
শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের পাইকপাড়া গ্রামের উত্তরপাড়ার পার্বতী মিশ্র, দক্ষিণপাড়ার মাধবচন্দ্র জানা, শান্তিপুর দোলইপাড়ার সুফিয়া বিবি, গুলুড়িয়া গ্রামের ঊর্মিলা মণ্ডল প্রযুক্তির ত্রুটির কারণে নোটিশ পেয়েছিলেন। ২০০২সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বিএলও অ্যাপে তাঁদের ‘নট ফাউন্ড’ দেখাচ্ছিল। সেজন্য বাড়িতে এসআইআর নোটিশ পৌঁছে গিয়েছিল। সেইসঙ্গে সোমবার থেকে তাঁদের বিডিও অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ অর্ডার অনুযায়ী, ওইসব ভোটারকে শুনানিতে হাজির হতে হবে না। রবিবার শহিদ মাতঙ্গিনী বিডিও অফিসে এসআইআর শুনানি ছিল। সেখানে মহকুমা শাসক দিব্যেন্দু মজুমদার, বিডিও সুজিতকুমার বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিডিও বলেন, আমাদের ব্লকে ১১৫৭জনকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে, ২০০২সালের ভোটার লিস্টে হার্ডকপিতে নাম থাকলেও, বিএলও অ্যাপে নাম না থাকা ২০০-২৫০ভোটারকে শুনানিতে আসতে হবে না। তমলুক পুরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডে ২২৭নম্বর বুথে মোট ২৫জন ভোটারের বাড়িতে নোটিশ পৌঁছয়। তার মধ্যে ৭৪বছর বয়সি আঙুর ঘোষও আছেন। ওই বুথের বিএলও প্রতুল হেমব্রম বলেন, নোটিশ পাওয়া ২৫জন ভোটারের মধ্যে ১৪জনকে শুনানিতে যেতে হবে না। আমরা তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেকথা জানিয়ে দিয়েছি। আসলে ২০০২সালের লিস্টে নাম থাকার পরও আমরা ফর্ম ডিজিটাইজ করার সময় বেশকিছু ক্ষেত্রে নট ফাউন্ড দেখাচ্ছিল। পুরো লিস্ট বিএলও অ্যাপে না থাকায় এই সমস্যা হয়েছিল। যাই হোক, শুনানি থেকে ওইসব ভোটারদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আবার, পাঁশকুড়ার নারান্দায় ২৬৪নম্বর বুথের বিএলও বিধান সাহা বলেন, আমার বুথে মোট ৪৪জন এসআইআর নোটিশ পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে বিএলও অ্যাপে ‘নট ফাউন্ড’ প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকা একজনও ভোটার নেই। অর্থাৎ ৪৪জনের প্রত্যেককেই হেয়ারিংয়ে উপস্থিত হতে হবে।
পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ৪৬ হাজার ২৬২ভোটারের কাছে এসআইআর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ভোটার প্রযুক্তিগত ত্রুটির শিকার বলে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য। তাই কমিশনের সর্বশেষ অর্ডার অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ২০ হাজার ভোটার শুনানি থেকে রেহাই পেলেন বলে জেলা নির্বাচন দপ্তরের দাবি। এনিয়ে অফিসার ইন-চার্জ ইলেকশন অনিরুদ্ধ নন্দী বলেন, প্রকৃত তথ্যটা এখনও সামনে আসেনি। তবে, নোটিশ পাওয়া আনুমানিক ২০ হাজার ভোটারের শুনানিতে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে মনে হচ্ছে।