নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: হঠাৎ করেই জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে জেলায়। কারও কারও ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর থাকছে। সঙ্গে শরীরে ব্যথা। চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কের কিছু নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ জল এবং প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধই যথেষ্ট। তবে টানা জ্বর না সারলে রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আউটডোরে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তারমধ্যে শিশুরাও রয়েছে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। দু’দিন আগেও হাসপাতালে ১০জন ভর্তি হয়েছিলেন। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি তাপস ঘোষ বলেন, এইসময় ভাইরাল ফিভার হয়। অযথা অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চার-পাঁচদিন পরও জ্বর না সারলে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের রক্ত পরীক্ষা করার পরও ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার নমুনা পাওয়া যায়নি। বর্ষার শুরুর সময় থেকে ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ে। সেই কারণে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন নিশা বিবি। তিনি বলেন, তিনদিন ধরে ছেলের জ্বর ছাড়ছে না। হাতে, পায়ে ব্যথা রয়েছে। রক্ত পরীক্ষা করানোর পরও কিছু পাওয়া যায়নি। এলাকার অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। ছেলে বৃষ্টিতে ভেজার পরই জ্বর এসেছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, খুব কম জনকেই ভর্তি করতে হচ্ছে। বাড়িতে থেকেই অধিকাংশ সুস্থ হয়ে উঠছেন। বেশি অ্যান্টিবায়েটিক খেলে শরীরে অন্য সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একটি অ্যান্টিবায়োটিকও খাওয়া উচিত না।
স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, বর্ষার শুরু থেকেই ডেঙ্গু মোকাবিলায় কর্মীরা নেমেছেন। তাঁরা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সতর্ক করছেন। বাড়িতে জল জমিয়ে রাখা উচিত নয়। সেটা তাঁরা বুঝিয়ে বলছেন। এছাড়া, কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে তাঁর নামও নথিভুক্ত করা হচ্ছে। রক্ত পরীক্ষার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত না হলেও অনেকের রিপোর্টে স্ক্রাব টাইফাসের দেখাও মিলেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, গত বছর আমরা প্রথম থেকেই সক্রিয় হওয়ায় ডেঙ্গু মোকাবিলা করা গিয়েছে। জেলায় একজনও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। কালনা মহকুমায় গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্তর সংখ্যা বেশি ছিল।
তবে অনেকে অন্য জেলা থেকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কালনায় এসেছিলেন। বর্ধমান শহরের দু’টি ওয়ার্ডেও অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, পুরকর্মীরাও প্রচারে নেমেছেন। শহর স্বচ্ছ রাখতেও জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাই এখন জ্বরে ভুগছেন। গ্রামীণ হাসপাতাল বা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেও অনেকেই চিকিৎসা করছেন।-ফাইল চিত্র