সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: স্বাধীনতা আন্দোলনের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছিল পূর্ব বর্ধমান। রাসবিহারী বসু, বটুকেশ্বর দত্ত, ভগৎ সিংয়ের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামী জেলায় এসে আন্দোলনের ব্লু-প্রিন্ট করতেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বারবার এই জেলায় এসেছেন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে বৈঠক করেছেন। সেসব কিছুর সাক্ষী আজও বহন করে চলছে এই জেলা। জেলার বাসিন্দারা চাইছেন, দেশপ্রেমিকদের আস্তানাগুলি সংরক্ষণ করা হোক। নতুন প্রজন্মও দেখুক সেই সমস্ত নিদর্শন। দেরিতে হলেও অবশ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বটুকেশ্বর দত্ত বা রাসবিহারী বসুর গ্রামে নানা উন্ননমূলক কাজের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তা বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে।
গলসির চান্না গ্রামের আশ্রমে বৈঠক করে গিয়েছেন সুভাষচন্দ্র বসু, বটুকেশ্বর দত্তরা। আশ্রমের গোপন ঘরগুলি এখনও রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, সেই সময় চান্না জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম এলাকা ছিল। এখানে ইংরেজবাহিনী সহজে পৌঁছতে পারত না। সেই কারণে এখানে আশ্রম গড়ে ওঠে। আশ্রমের আড়াল এখানে চলত স্বাধানীতা সংগ্রামীদের কার্যকলাপ। প্রশিক্ষণ থেকে আলোচনা সব কিছুই এখানে চলত। তবে পরিচর্যার অভাবে ঐতহিাসিক এই জায়গা নষ্ট হতে বসেছে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সেই গোপন ঘর ভেঙে যেতে বসেছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ওই আশ্রম নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।
খণ্ডঘোষের ওঁয়াড়ি গ্রাম ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আস্তানা। ইতিহাস বলছে, ১৯২৯ সালের ৮ এপ্রিল দিল্লিতে পার্লামেন্ট হাউসে বোমা ছুড়েছিলেন ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত। সেই পরিকল্পনা হয়েছিল এই গ্রামে বসে। এই গ্রামে এসে ভগৎ সিং বহুদিন আত্মগোপন করেছিলেন। বটুকেশ্বর দত্তর বাড়ির নীচে তৈরি হয়েছিল গোপন ডেরা। সেই গোপন ডেরা এখন অবশ্য বিলীন হয়ে গিয়েছে। তবে গ্রামেই প্রতীকী হিসেবে পাতাল ঘর তৈরি হয়েছে। তা দেখতে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ভিড় করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীর এই গ্রামে ১৫ আগস্ট উদযাপন হয় ধুমধাম করেই।
দক্ষিণ দামোদরের সুবলদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আর এক বীর সন্তান রাসবিহারী বসু। এই গ্রামে কান পাতলে এখনও স্বাধীনতা সংগ্রামীর নানা কাহিনি শোনা যায়। গ্রামের বাসিন্দারা চাইছেন, সুবলদহ গ্রামে আরও বেশি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগুক। স্বাধীনতা সংগ্রামীর বীরত্বের কাহিনী ফুটিয়ে তোলার ব্যবস্থা করা হোক। এই গ্রামে এসে তেমন কিছু দেখতে না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যান।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, আমাদের জেলায় কৃতী সন্তানদের স্মরণে একাধিক প্রকল্প নেওয়ার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে তা বাস্তবায়িত করা হবে। রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামীরা আমাদের জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বহু বারবার এই জেলায় এসেছেন। তিনি কালনা শহরে আশ্রমে এসেছিলেন। সেই আশ্রমে তিনি যে চেয়ারে বসেছিলেন সেটি এখনও অক্ষত রয়েছে। এই আশ্রমে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। বাকি জায়গাগুলিতেও করা হবে।
জেলার বাসিন্দারা বলেন, পূর্ব বর্ধমানের অনেকে আড়ালে থেকে গিয়েছেন। দেশ স্বাধীন করার ক্ষেত্রেও তাঁদেরও ভূমিকা কম ছিল না। সেসব মহান ব্যক্তিদের মর্যাদা দিয়ে সামনে আনা উচিত।