নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ রোল পযর্বেক্ষক সুব্রত গুপ্ত দ্রুত ফর্ম সংগ্রহের নির্দেশ দেন। রাজ্যের সব জেলায় এখনও বহু ফর্ম বিএলওদের কাছে জমা পড়েনি। শনিবার পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমানে ২লক্ষ ৮হাজার ৮৭৩টি ফর্ম সংগ্রহ হয়নি। পুরুলিয়ায় ১লক্ষ ৮৩ হাজার ৯২৮, নদীয়ায় ২লক্ষ ১৪ হাজার ৮৪১, বাঁকুড়ায় ১লক্ষ ৩১হাজার ৩৫৯টি ফর্ম বুথ লেভেল অফিসাররা সংগ্রহ করতে পারেননি। ফর্ম দেওয়ার পর বিএলওরা একাধিকবার বাড়িতে গিয়েছেন। তারপরও তাঁদের অনেকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে, ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ অধিকাংশ জেলায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পূর্ব বর্ধমানে ১০০ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজেশন হয়ে গিয়েছে। কলকাতা দক্ষিণ, দক্ষিণ ২৪পরগনা এবং কলকাতা উত্তর এই কাজে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানে মোট ৪১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৯৫জন ভোটার রয়েছেন। এসআইআরের কাজে এই জেলা প্রথম থেকেই এগিয়ে রয়েছে। বিএলওরা একাধিকবার বাড়িতে গিয়ে ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার কাজ করেছেন। কোনও কোনও বিএলওর বিরুদ্ধে অবশ্য তৃণমূলের পার্টি অফিস কিংবা পাড়ার কোনও এক জায়গায় বসে ফর্ম বিলি করার অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন কয়েকজন বিএলওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে। রাজ্যে শনিবার পর্যন্ত ৫৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ১৬৭টি ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি। বীরভূম জেলায় ১লক্ষ ৭৩ হাজার ১১৭টি ফর্ম সংগ্রহ বাকি রয়েছে। মুর্শিদাবাদে দু’লক্ষ ৭৩ হাজার ৭৯৭, পশ্চিম বর্ধমানে তিন লক্ষ দু’হাজার ৩১১টি ফর্ম বিএলওরা এখনও হাতে পাননি। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে পশ্চিম বর্ধমানে সবচেয়ে বেশি ফর্ম সংগ্রহ হয়নি। মোট ভোটারের ১২.৯৯ ফর্ম সংগ্রহ হতে বাকি রয়েছে।
আধিকারিকদের দাবি, অনেকের একাধিক রাজ্যে ফর্ম রয়েছে। তাঁরা ফর্ম নেওয়ার পর আর জমা করেননি। বহু মৃত ভোটারের ফর্মও সংগ্রহ করা হয়নি। ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতে নির্বাচন কমিশন কড়া নির্দেশ দিয়েছে। যেসব ভোটাররা ফর্মে নিজেদের বয়স ৮৫ বছর বলে উল্লেখ করেছেন, তাঁদের বাড়িতে বিএলওদের ফের যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদৌ তাঁরা বেঁচে রয়েছেন কি না, সেই সম্পর্কে কমিশন নিশ্চিত হতে চাইছে।
যদিও সর্বদলীয় বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলি দাবি করেছে, মৃত ভোটারদের নামে ফর্ম বিলি না করলে এই সমস্যা তৈরি হত না। কোন বুথে কারা মারা গিয়েছেন, সেই তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। কমিশন তা খুব সহজে সংগ্রহ করতে পারত। তা না করে তারা মৃত ভোটারদের বাড়িতেও ফর্ম বিলি করেছে। অসংগৃহীত ফর্ম পাওয়ার জন্য বিএলওরা বিশেষ অভিযান শুরু করেছেন। একাধিকবার বাড়িতে যাওয়ার পরও তাঁদের না পাওয়া গেলে বাতিল বলে ঘোষণা করা হবে।