নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এসআইআর নিয়ে বিজেপির গর্জনই সার। তাদের দাবি ছিল জেলায় কয়েক লক্ষ ভুয়ো ভোটার রয়েছে। অর্থাৎ বাইরের বহু ভোটারের নাম জেলায় রয়েছে। এসআইআয়ের শেষ পর্বে এসে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হতে চলেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব বর্ধমানে মাত্র ১৫ হাজার ৮৭ জন ভোটারের কাছে বিএলওরা পৌঁছতে পারেননি। কমিশনের কাছে থাকা তাদের ঠিকানায় একাধিকবার গিয়েও পাওয়া যায়নি। তাদের কমিশন ‘অ্যাবসেন্ট’ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আধিকারিকরা বলছেন, এটা অস্বাভাবিক নয়। প্রতিবারই এই সংখ্যক ভোটার অনুপস্থিত থাকে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর নিয়ে বিজেপি যে অঙ্ক কষেছিল সেটা না মেলার সম্ভবনা বেশি। তাদের ধারণা ছিল জেলায় সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বেশি বাদ যাবে। সেটা পূর্ব বর্ধমানে হয়নি। বাংলাদেশ থেকে এসে মতুয়ারাই এই জেলায় বেশি সংখ্যায় বসবাস করছেন। এসআইআরে তাঁরাই বেশি বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে ২০০২ সালের পর যাঁরা এসেছেন, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়া সম্ভবনা বেশি। পাশের জেলা পশ্চিম বর্ধমান এক সময় বিজেপির শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। পূর্ব বর্ধমানের তুলনায় সেই জেলায় গেরুয়া শিবিরের সংগঠন এখনও যথেষ্ট মজবুত। এই জেলায় বেশি সংখ্যক ‘অ্যাবসেন্ট’ ভোটার রয়েছে। ৩৪ হাজার ৮৩১ জন ভোটারের কাছে বিএলওরা পৌঁছতে পারেননি। অর্থাৎ পূর্ব বর্ধমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভোটার এখানে অনুপস্থিত রয়েছে। নদীয়া জেলায় প্রায় ১৭ হাজার ভোটারের কাছে বিএলওরা পৌঁছতে পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী তাদের ঠিকানায় বিএলওরা তিনবার যাওয়ার পরও তাদের না পাওয়ায় ‘অ্যাবসেন্ট’ ঘোষণা করা হয়। বর্ধমান শহরের তৃণমূলের সভাপতি তন্ময় সিংহরায় বলেন, বিজেপি নেতাদের বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কোনও কাজ নেই। ওরা বলছিল প্রতিটি জেলায় লক্ষ লক্ষ ভুয়ো ভোটার লুকিয়ে রয়েছে। তারা এতদিনে বাস্তবতা বুঝতে পেরেছে। সেই কারণে এখন তাদের গলায় অন্য সুর শোনা যাচ্ছে। বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, আমরা কখনওই চাইনি বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাক। আমাদের প্রশ্ন, তালিকায় ১৫ হাজার ভুয়ো ভোটারের নামই বা থাকবে কেন। ৯৩ হাজারের বেশি মৃত ভোটার ছিল। তাদের কার্ডে তৃণমূল নেতারা ভোট দিত। এখন নামগুলি বাদ চলে যাওয়ায় তৃণমূল চাপে পড়ে গিয়েছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম দলের জেলা পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, আমরা প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিলাম বহু মৃত ভোটারের নাম তালিকায় রয়ে গিয়েছে। তাদের বাদ দিয়ে ফর্ম বিলি করা হোক। কমিশন পরে সেটা বুঝতে পেরেছে। কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানে প্রায় ৯৯ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজেশন হয়ে গিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে অধিকারিকদের দাবি।-ফাইল চিত্র