Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাতের অন্ধকারে চলছে মাটি কাটার কাজ, নীরব প্রশাসন

অবৈধভাবে এই মাটি কাটা বন্ধ করতে পুলিস প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করিমপুর ২ ব্লকের নতিডাঙা গ্রামের বাসিন্দাদের।

রাতের অন্ধকারে চলছে মাটি কাটার কাজ, নীরব প্রশাসন
  • ১২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: রাতের অন্ধকারে চলছে মাটি কাটার কাজ। অবৈধভাবে এই মাটি কাটা বন্ধ করতে পুলিস প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করিমপুর ২ ব্লকের নতিডাঙা গ্রামের বাসিন্দাদের। মাটি বোঝাই গাড়ি যাতায়াতে রাস্তা বেহাল বলেও তাদের দাবি। থানারপাড়ার সাহাজিপাড়া, পীরতলাপাড়ার মাসাদুল শেখ, মফিজুল ফকির, গোলাম মোল্লারা তাদের লিখিত অভিযোগে জানান, গত কিছুদিন থেকে থানারপাড়া মৌজার ৩৭ নং কলমি গাড়ির মাঠে ৪ টি দাগে ২ একর ১৯ শতক জমিতে রাতের অন্ধকারে হেভিওয়েট ১০টি ডাম্পার, ২২টি ট্রাক্টর ও ৩টি মাটিকাটা যন্ত্র দিয়ে রাতের অন্ধকারে মাটিকাটা চলছে। সেই মাটি পাড়ার রাস্তা দিয়েই স্থানীয় ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মাটি বোঝাই গাড়ি যাওয়ার কারণে গ্রামের একমাত্র রাস্তাটি একেবারে বেহাল হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের একাধিক জায়গায় তাঁরা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তার পরেও কাজ হয়নি।     গ্রামবাসীদের অভিযোগ সত্যি বলে জানিয়েছেন পাড়ার বাসিন্দা ও গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য কালাম মোল্লা। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর জলকাদার মধ্যে সেই মাটি নিয়ে গাড়ি যাওয়ার ফলে পাড়ার রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিষয়টি আমি প্রধান সহ বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েছি। যদিও জমির মালিক সুভাষচন্দ্র ঘোষ দাবি করেন, তার মোট ৫৪ শতক জমিতে মাটি কাটার জন্য রীতিমতো ডিসিআর কেটে প্রায় আশি হাজার টাকা রয়্যালটি জমা দিয়ে তারপরেই মাটি কাটার কাজ শুরু করেছেন। অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ ঠিক নয়। এই বিষয়ে নতিডাঙ্গা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মেরিনা বিশ্বাস বলেন, গ্রামবাসীদের লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের কথা শুনে বিষয়টি সরজমিনে দেখেছি। মানুষের অভিযোগ সঠিক। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে ঘটনাটি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য কালাম মোল্লার জানান, উনি জমি থেকে ৮ ফুট গর্ত করে ইটভাটার মালিককে মাটি দিচ্ছেন। ৫৪ শতক জমির মাটি কাটার জন্য ৮০ হাজার টাকা রয়্যালটি জমা দিলেও হিসেব মতো ১৫ শতকের বেশি জমিতে মাটি কাটতে পারবেন। তাহলে চারটি দাগে ২১৯ শতক জমির মাটি কীভাবে কাটতে দিয়েছেন। তদন্ত হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। পুলিস জানিয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশমতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করিমপুর ২ ভুমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক রোহিতরঞ্জন সিংহ জানান, ওখানে সরকারকে রয়্যালটি দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছে। মহকুমা ভূমি সংস্কার আধিকারিক তথাগত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। করিমপুর ২ ব্লকের বিডিও সুপ্রতিক মজুমদার জানান, মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে ভূমি সংস্কার দপ্তরের সঙ্গে এবং খারাপ রাস্তার ব্যাপারে পঞ্চায়েতের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ