Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এআইএফ প্রকল্পে সুবিধে সত্ত্বেও সাড়া মিলছে না চাষিদের থেকেই

এআইএফ প্রকল্পে সুবিধে সত্ত্বেও সাড়া মিলছে না চাষিদের থেকেই
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে দরিদ্র কৃষক ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতে চাইলে তার ‘গ্যারান্টার’ হয় খোদ রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, ঋণশোধের সময়ে যে সুদ দিতে হয়, তারও একটি অংশ বহন করে সরকার। বছর চারেক আগে কৃষকদের স্বার্থে রাজ্য সরকার এই বিশেষ সুবিধা চালু করলেও সাড়া মিলছে না উপভোক্তাদের। কখনও ব্যাঙ্কের তরফে সহায়তা না পেয়ে আবার কখনও জটিল আবেদন প্রক্রিয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি বলে কৃষকদের দাবি। 
Advertisement
বাংলার চাষিরা কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে চাইলে সরকারের তরফে বিশেষ প্রকল্প রয়েছে। যার পোশাকি নাম, এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড অথবা এআইএফ। কিন্তু এই বিশেষ প্রকল্প কৃষক মহলে মোটেই সাড়া ফেলতে পারেনি। রানাঘাট ২ ব্লকের হিসেবে দেখা গিয়েছে, চালুর পর থেকে মেরেকেটে ৬ জন এই প্রকল্পের সুবিধে নিয়েছেন। ব্লক কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড রাজ্য সরকার শুরু করেছিল কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে কৃষকদের আর্থিক সুবিধা দিতে। এই প্রকল্পে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ নিতে পারবেন কৃষিজীবীরা। যার ‘গ্যারান্টার’ সরকার নিজেই। অর্থাৎ কোনও ‘কো ল্যাটারাল সিকিউরিটি’ প্রয়োজন হচ্ছে না। একই অংকের দিনে সুদের ৩ শতাংশ অনুদান দেবে সরকার। সমবায় সমিতি সুদের উপর অতিরিক্ত ৩ শতাংশ অনুদান পেতে পারে। ফলে ঋণের উপর কার্যকরী সুদ হবে এক শতাংশ মাত্র। অর্থাৎ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে, গুদামঘর, পণ্য পরীক্ষণ সংস্থা, প্যাক হাউস, কোল্ড চেন, লজিস্টিক সাপোর্ট সিস্টেম (বিভিন্ন ধরনের গাড়ি), পরিপক্ক কক্ষ ইত্যাদি তৈরি করতে পারবেন কৃষকরা। বলাই বাহুল্য, এই বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে এমএসএমই অর্থাৎ ছোট ও মাঝারি উদ্যোগকে সহায়তার চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু এত সুবিধে সত্ত্বেও কেন কৃষকরা এগিয়ে আসছেন না? রানাঘাট ২ ব্লকের অন্তর্গত মাটিকুমড়া এলাকার চাষি নয়ন বিশ্বাস বলেন, আমি এরকম প্রকল্পের কথা জানতাম না। তবে কৃষক বন্ধু পাই। পুরাতন চাপড়া এলাকার চাষি ভোলা বিশ্বাস বলছেন, আবেদন প্রক্রিয়া অনেক জটিল। আমি কী পরিকাঠামো তৈরি করব তার জন্য ডিপিআর (ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট) তৈরি করতে হয়। আমাদের পক্ষে অত কঠিন কাজ করা সম্ভব নয়। যদি সেটা হয়েও যায়, এই সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যাংক আমাদের ঘোরায়। আমার পাশের জমির একজন আবেদন করেছিলেন। ছ’ মাস শুধু ব্যাংকে ঘুরতে হয়েছে।  
তবে প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, জটিল আবেদন প্রক্রিয়া কোনও সমস্যাই নয়। কারণ চাষিরা কৃষিদপ্তরের ব্লক অফিসে এলে কর্মীরা ডিপিআর তৈরি করে দেন এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করেন বলে দাবি। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট ২ ব্লকের কৃষি উন্নয়ন আধিকারিক বা এডিও পৃথ্বীরাজ প্রমাণিক বলেন, বেশি সংখ্যক কৃষক যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পান তার জন্য আমরা সবরকম সহায়তা করতে রাজি। ডিপিআর তৈরি এবং প্রকল্পগত যে কাগজপত্র তৈরি করতে হয় তাতে আমরা সাহায্য করব। 
সম্পর্কিত সংবাদ