নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ই-রিকশ ও টোটোর ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন এবং এনরোলমেন্ট বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর। এক্ষেত্রে অবশ্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়া জেলা পরিবহণ দপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, ৩০ নভেম্বর রেজিস্ট্রেশন এবং এনরোলমেন্টের জন্য শেষ দিন ধার্য্য করা হয়েছে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ই-রিকশার রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাহন পোর্টালে আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে, টোটোর ক্ষেত্রে টিটেন (TTEEN) পোর্টালে এনরোলমেন্টের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনও ই-রিকশা কিংবা টোটো রেজিস্ট্রেশন এবং এনরোলমেন্ট আওতায় না এলে সেগুলিকে রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না। কোনও ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে রাস্তায় নামলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবিষয়ে পুরুলিয়া জেলার আরটিও অর্ণব চিন্যা বলেন, রেজিস্ট্রেশন এবং এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে নতুন করে প্রায় দু’হাজার ই-রিকশ ও টোটো রেজিস্ট্রেশন এবং এনরোলমেন্ট হয়ে গিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে আমরা একাধিক বৈঠক সেরেছি। আরও বেশকিছু আবেদনও জমা পড়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের পর রেজিস্ট্রেশন এবং এনরোলমেন্ট ছাড়া কোনও ই-রিকশ কিংবা টোটো রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট অনুমোদিত সংস্থার ই-রিকশর ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। তবে, যেগুলি স্থানীয়স্তরে তৈরি করা হয়েছে, সেগুলিকে টোটো হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলির ক্ষেত্রে এনরোলমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জেলাজুড়ে বর্তমান সময়ে কমবেশি ৭ হাজার ২০০ ই-রিকশ ও টোটো রয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজারের বেশি ই-রিকশ এবং টোটোর রেজিস্ট্রেশন এবং এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে, এখনও প্রায় এক হাজার ই-রিকশ ও টোটো রেজিস্ট্রেশন এবং এনরোলমেন্টের আওতায় আসেনি। দ্রুত সেই কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে জেলা পরিবহণ দপ্তর দফায় দফায় বৈঠক সারছেন। প্রশাসনিকস্তরে বৈঠক করার পাশাপাশি টোটো ইউনিয়নের সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করা হয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। এরপরই ই-রিকশ ও টোটোর জন্য পৃথকভাবে রুট নির্ধারণ করা হবে।
প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, জেলার সদর শহর পুরুলিয়ায় সব থেকে বেশি ই-রিকশ ও টোটো চলাচল করে। সংখ্যা কমবেশি ১২০০। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রেজিস্ট্রেশন এবং এনরোলমেন্ট ছাড়া ই-রিকশ কিংবা টোটো শহর সহ গ্রামের রাস্তায় কোনও দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে উঠে। এছাড়াও কোনও অপরাধমূলক কাজে সেসব ই-রিকশ কিংবা টোটো ব্যবহার হলে তার হদিস পাওয়াও দুষ্কর হয়ে উঠে। তবে, রেজিস্ট্রেশন এবং এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন হলে সব সমস্যার সমাধান হবে। সেইসঙ্গে যাত্রী নিরাপত্তার দিকটিও সুনিশ্চিত হবে।