নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এবার পূর্ব মেদিনীপুরে শপিংমলের মতো সমস্ত মদের দোকানেও ই-পস (ইলেকট্রনিক পয়েন্ট অব সেল) যন্ত্র রাখা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি মদ বিক্রির সময় ওই যন্ত্রের সাহায্যে কিউআর কোড কিংবা বার কোড স্ক্যান করা বাধ্যতামূলক। সেইসঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় কত সেল হল, সেটা সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদ বিক্রেতাকে মোবাইল অ্যাপে জানাতে হবে। আবগারি দপ্তরের কর্তারা জানান, এতে যেমন স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, তেমনি একটি দোকানে কত মদ মজুত আছে ও বিক্রি হয়েছে-সেটাও আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা একনজরে জানতে পারবেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের এক্সাইজ সুপার মণীশ শর্মা বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে প্রত্যেক দোকানে ই-পস যন্ত্র চালু করা হয়েছে। এজন্য আমরা সেলসম্যানদের ট্রেনিং দিয়েছি। তাঁরা মদ বিক্রির সময় কোড স্ক্যান করবেন। সেইসঙ্গে মোবাইল অ্যাপে বিক্রির পরিমাণও জানাবেন।পূর্ব মেদিনীপুরে ২৯১টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান আছে। ৯৯শতাংশ দোকানে ই-পস সিস্টেম চালু হয়ে গিয়েছে। সাধারণত দেশি মদ ও এদেশে তৈরি অন্য কিছু লিকারের বোতলে কিউআর কোড থাকে। বিদেশ থেকে আনা মদের বোতলে বার কোড থাকে। ই-পস যন্ত্রে কিউআর কোড ও বার কোড স্ক্যান করতে হবে। এতে দোকানে বিক্রির পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য আবগারি দপ্তরের ডিরেক্টরেট অফিস পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।
এছাড়া, প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকানে বিক্রির পরিমাণ ২৪ঘণ্টায় একবার মোবাইল অ্যাপে আপলোড করতে হবে। তাতে আবগারি দপ্তর দৈনিক রিপোর্ট পাবে। মাঝেমধ্যে নামীদামী ব্র্যান্ডের মদ নকল করে বিক্রির ঘটনা সামনে আসে। ই-পস যন্ত্রে স্ক্যান করলে এধরনের নকল মদ ধরা পড়বে।
জেলায় এখন রোজ ৪কোটি ২০লক্ষ থেকে সাড়ে ৪কোটি টাকার মদ বিক্রি হচ্ছে। ১২নভেম্বর ৪কোটি ৪৬লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। ১১নভেম্বর ৪কোটি ২৬লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়। আবগারি থেকে বিপুল পরিমাণ কর আদায় হয়। তাই আবগারি কর আদায়ে আরও স্বচ্ছতা আনতে ই-পস যন্ত্র রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।