সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মহকুমা শাসকের দেওয়া সাতদিন সময়সীমার মধ্যে পেরিয়েছে চারদিন। টিআরডিএর পক্ষ থেকে দ্বারকা নদের পাড় ঘেঁষে থাকা ২৭টি লজকে চিহ্নিত করে নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হোটেল-লজের নালা-নর্দমাগুলিকে সরকারি নালার সঙ্গে যুক্ত করার ব্যাপারে কোনও হেলদোল দেখা যাচ্ছে না। বছর আটেক আগেও দ্বারকা নদের দূষণ রোধে পরিবেশ আদালত চিঠি দিয়ে লজ বন্ধ করার জন্য বলেছিল। যদিও সেইসময় রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে লজ বন্ধ হওয়ার হাত থেকে বাঁচেন ওই মালিকরা। কিন্তু তারপরও তাদের লজের দূষিত জল দ্বারকায় মিশছে। প্রশাসনের এই নির্দেশের পরও তারা কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেপরোয়া মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে বলে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। যদিও টিআরডিএর চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রশাসনিক নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কিনা আমরা দেখব। যদি না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে মহকুমা শাসককে বলা আছে, আর কোনও মিটিং নয়। ওই লজ মালিকদের কিছুই জানানো হবে। সরাসরি অ্যাকশন হবে।
তারাপীঠে দ্বারকা নদের দূষণ রোধে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট গড়ে উঠলেও কোনও কাজে আসছে না। লজ ও হোটেলের দূষিত জল দ্বারকায় মিশছে। তারাপীঠের হোটেল-রেস্তরাঁ থেকে দ্বারকায় যথেচ্ছ দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বছর আটেক আগে একটি মামলার পরিপেক্ষিতে পরিবেশ আদালতের নির্দেশে দ্বারকা নদ সংস্কার করে সেচদপ্তর। দূষণ রোধে টিআরডিএর পক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক চুল্লি নির্মাণ সহ পিএইচইর উদ্যোগে সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু দ্বারকা নদ দূষণমুক্ত হয়নি।
টিআরডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেইসময় পরিবেশ আদালত দ্বারকা নদের পাড় ঘেঁষে থাকা ২৭টি লজের মালিককে চিঠি দিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। বিশেষ করে এই লজগুলির তরল বর্জ্য সরাসরি দ্বারকায় মিশছে। তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হোটেল বন্ধ না করে সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। প্ল্যান্ট গড়ে তুলতে ৩৪কোটি টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য সরকার। মাটির তলায় পাইপ বসানো সহ একাধিক ম্যানহোল করা হয়। ২০২২সালের শেষে সেই কাজ শেষ হয়েছে। এরপর একাধিকবার টিআরডিএর মিটিংয়ে হোটেল-লজের নালাগুলি সরকারি নালার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য বলা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ হোটেল সেই নির্দেশ মানেনি। গত সোমবার হোটেল ও লজ মালিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন টিআরডিএর সিইও তথা মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর, চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। মহকুমা শাসক জানিয়ে দেন, সাতদিনের মধ্যে হোটেল ও লজের নালাগুলি নিজেদের উদ্যোগে সরকারি নালার সঙ্গে যুক্ত করে নিতে হবে। অন্যথায় পদক্ষেপ করা হবে। কিন্তু লজ মালিকদের হেলদোল নেই।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে ওই এলাকার রাস্তা উঁচু হওয়ার কারণে লজগুলি অপেক্ষাকৃত নিচু হয়ে গিয়েছে। লজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় ডাউন লাইন করা উচিত। যাতে জল বেরতে পারে। অথবা সরকারের পক্ষ থেকে পাম্প বসানো হোক।